সংসদে এসে বিরোধীদল সরকারের ভুল ধরিয়ে দিক: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬ জাতীয় সংসদের আসন্ন তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত মেয়াদের হতে পারে, তবে প্রয়োজন দেখা দিলে এর সময়সীমা বাড়ানো হবে। বুধবার সংসদ ভবনে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে চিফ হুইপ সংসদীয় কমিটি গঠন, সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, বিরোধীদলের সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। এই অধিবেশনে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত বিলসহ প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের আওতায় বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও জীবিত থাকা পর্যন্ত সেটির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার নিজেদের কাছেই রাখতে পারবেন, যা সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধে ভূমিকা রাখবে। জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় নির্বাচনি ইশতেহার দেখেই দেশের মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জনগণের এই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় দেশের স্বার্থে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি বা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংস্কারের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় সব political party যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। সংविधान সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। এই কমিটিতে বিএনপি থেকে ৭ জন, জামায়াত থেকে ৫ জন এবং অন্যান্য ছোট দল থেকে একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিরোধীদল নাম দিলে তাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধনকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভারতের উদাহরণ টানেন, যেখানে গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানোই বিরোধীদলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিরোধীদল সংসদের বাইরে কোনো অস্থিরতা তৈরি না করে জনগণের সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে জেল, গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে যে অর্জন এসেছে, তা অন্য কারো হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। সংসদের বাইরে আন্দোলনের নামে যেন পুনরায় স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পথ সুগম না হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করেন। চলমান সংকট মোকাবিলায় সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, মাত্র ছয় মাসে একটি সরকারের পক্ষে সব দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আপনার গভর্নমেন্টের বয়স ছয় মাস। ইচ্ছা করলাম, আমি দারুণভাবে চেষ্টা করলাম—আমি ছয় মাসে একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে পারব? সবকিছু অনুকূলে থাকলেও একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে দুই বছর লাগে মিনিমাম।’ তাই বড় অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে অস্থিরতা তৈরি হলে তার ক্ষতি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর পড়তে পারে। বিগত সরকারের বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এসব চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি করেছে। দায়মুক্তির আইন করে এসব চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার কারণে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে। বিশেষ করে আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এর ফলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে এবং এই অর্থনৈতিক চাপ থেকে বের হতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৩২আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৩৭ SHARES জাতীয় বিষয়: আদানি চুক্তিজাতীয় সংসদতারেক-রহমাননূরুল ইসলাম মনিসংবিধান সংশোধনসংসদ অধিবেশন