সীতাকুণ্ডের জলিল টেক্সটাইল মিলের জমিতে হচ্ছে সমরাস্ত্র কারখানা

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের জমিতে এবার অস্ত্র উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এই কারখানার ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

এই জমি হস্তান্তর ও চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফৌজদারহাটের জলিল টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ এবং সেনাপ্রধানসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

জলিল টেক্সটাইলের জমি বিওএফের কাজে ব্যবহারের এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। ওই বছরের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধান একটি বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে মিলটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে কৌশলগত দিক থেকে জায়গাটিকে সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর একই বছরের ৩১ অক্টোবর সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) শাখা থেকে মিলের জমিটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বিওএফের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে, কারখানাটি হস্তান্তর নিয়ে জলিল টেক্সটাইলের সাবেক শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ২০০৪ সালে মিলটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা তাঁদের বকেয়া পাওনা পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। জলিল টেক্সটাইল মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি অনুযায়ী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম শফিক বসাক অ্যান্ড কোংয়ের নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে শ্রমিকদের বেতন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ মোট ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।

জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড সিবিএ-এর সভাপতি মসিউদ্দৌলা বকেয়া পরিশোধ না করেই জমি হস্তান্তরের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা এখনও আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পাইনি। এই পাওনা আদায়ের জন্য আমরা একাধিকবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিটিএমসির সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করেছি। এমনকি সাবেক অর্থমন্ত্রীও আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের বকেয়া পরিশোধের কোনো সমাধান না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করে দেওয়া হচ্ছে।"

তিনি আরও জানান, হস্তান্তরের প্রতিবাদে তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠান চলাকালে তাঁরা অনুষ্ঠানস্থল থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে নিজেদের কর্মসূচি পালন করবেন এবং বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তাঁদের দাবি ও বকেয়া পাওনার বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।

ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।

নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected] কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত