খ্যাতি বা টাকার জন্য নয়, লিখতে হবে মনের টানে

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬

লেখালেখি কেবল শব্দ বিন্যাসের কাজ নয়, বরং এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে পাঠ, পর্যবেক্ষণ, অনুভূতি এবং জীবনের গভীর উপলব্ধি। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘লেখক বন্ধু উৎসব ২০২৬’-এ বক্তারা নতুন লেখকদের উদ্দেশে এই পরামর্শ দিয়েছেন। সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে সারা দেশ থেকে নির্বাচিত লেখক বন্ধুরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক লেখকজীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, শিল্পী হওয়া মানেই ব্যর্থতা মেনে নেওয়া। তিনি নতুনদের উদ্দেশে বলেন, খ্যাতি বা টাকার জন্য লিখবেন না, বরং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দর্শন অনুযায়ী দেশের মানুষের উপকার এবং সৌন্দর্য সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে লিখতে হবে। সমালোচনার ভয় না করার পরামর্শও দেন তিনি।

অনুবাদের ক্ষেত্রে ফারুক মঈনউদ্দিন বলেন, অনুবাদককে অবশ্যই সৃষ্টিশীল হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ভাষার সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে হবে। ভ্রমণকাহিনি বা সাহিত্যেও স্থানীয় মানুষের চরিত্র ও ইতিহাসের প্রতিফলন থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। কবি ও প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, অনুভূতিকে ভাষার মাধ্যমে সর্বজনীন করতে পারলেই তা কবিতা হয়ে ওঠে।

লেখার ক্ষেত্রে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়ার আহ্বান জানান কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল। তিনি বলেন, পাঠকের অংশগ্রহণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমেই সাহিত্য শিল্পে পরিণত হয়। ফিচার সাংবাদিকতার বিষয়ে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন বলেন, ফিচার সাংবাদিকতারই অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেখানে সঠিক তথ্যের ব্যবহার সাহিত্যিক ঢঙে উপস্থাপন করতে হয়।

বই প্রকাশ ও পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতির বিষয়ে সময় প্রকাশনের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ লেখকদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। বাতিঘরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাফর আহমদ রাশেদ বলেন, প্রকাশকের কাছে পাঠানোর আগে পাণ্ডুলিপিতে সূচিপত্র, পৃষ্ঠা নম্বর ও ভূমিকার মতো বিষয়গুলো গুছিয়ে রাখা প্রয়োজন। কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন উল্লেখ করেন, ভালো লেখার কোনো সর্বজনীন সূত্র নেই, তবে প্রচুর পড়ার পাশাপাশি সংবেদনশীলতা ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা থাকা অপরিহার্য।

বিকাশের মহাব্যবস্থাপক (কমিউনিকেশন) রুখসানা মিলি আয়োজনে অংশগ্রহণকারী তরুণ লেখকদের শুভ কামনা জানান। বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক অংশগ্রহণকারীদের ভালো লেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আহ্বায়ক সৌমেন্দ্র গোস্বামী। এছাড়া বন্ধুসভার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ‘লেখক বন্ধু পুরস্কার ২০২৬’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন আফিফুল ইসলাম, মো. আবুল বাশার, খোন্দকার হুমায়ূন কবীর, নুসরাত রুষা ও জাসেদুল ইসলাম। এছাড়া কর্মশালায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত পাঁচজন এবং চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার সেরা তিনজনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

২০২৫-২৬ সালে বন্ধুসভার ওয়েবসাইটে ও স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত লেখার জন্য তাঁরা এই পুরস্কার পান।লেখালেখি কর্মশালা মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত পাঁচজনের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছে পুরস্কার।