ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু

প্রকাশিত: ১:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সৃষ্টি হওয়া ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সেই প্রাণ হারিয়েছেন আমিরুন্নেছা নামের এক রোগী। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তার স্বজন তারেক আল হাসান জানান, রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি দাউদকান্দি পৌঁছালে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে। প্রায় চার ঘণ্টা গাড়িটি একই স্থানে স্থবির হয়ে থাকায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে পথেই তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, তাদের আক্ষেপ ছিল, হয়তো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

মহাসড়কে এই যানজটের কারণে সাধারণ যাত্রীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদেশগামী যাত্রী মনির হোসেন জানান, চান্দিনা থেকে অটোরিকশা যোগে গৌরীপুর পর্যন্ত আসতে তাকে ১২৫০ টাকা খরচ করতে হয়েছে। মহাসড়কে এআই ক্যামেরার কড়াকড়ির কারণে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর সুযোগ না থাকায় যানজট আরও প্রকট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি প্রেম দাস রায় জানান, দুপুর ১২টার দিকে যানজট কিছুটা কমলেও ১২টা ৩০ মিনিটের পর থেকে তা আবারও বাড়তে শুরু করে। দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে ঢাকামুখী লেনে কুমিল্লার দিকে যানজট ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, যানজট চান্দিনা এলাকা ছাড়িয়ে বুড়িচং উপজেলার নিমসারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। মহাসড়কে যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে এবং যানজট নিরসনে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে।