শ্রমিক মায়ের স্বপ্ন: ছেলে আমার মতো শ্রমিক না হোক প্রকাশিত: ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট রাবারবাগানে প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই দিন শুরু হয় টুনি তাঁতীর। ৪৩ বছর বয়সী এই নারী ২৬ বছর ধরে রাবারগাছের বাকল কেটে কষ সংগ্রহের কাজ করছেন। প্রতিটি গাছে টিনের ক্লিপ বসিয়ে নিচে রাখা বাটিতে রাতভর জমা হওয়া কষ তিনি বালতিতে সংগ্রহ করেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে তিনি বাগানের অফিসে জমা দেন। টুনির কর্মজীবন শুরু হয়েছিল মাত্র ১৭ বছর বয়সে, সংসারের হাল ধরার প্রয়োজনে। টুনির প্রতিদিনের রুটিন অত্যন্ত কঠিন। ভোর পাঁচটার দিকে কাজে বেরিয়ে পড়ার পর গাছ থেকে গাছে কষ সংগ্রহের কাজ চলে। এরপর নাশতা শেষে শুরু হয় গৃহস্থালির নানা কাজ—রান্নার জন্য শুকনা কাঠ সংগ্রহ থেকে শুরু করে গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটা। দিন শেষে বাড়িতে ফিরে স্নান, রান্নাবান্না ও পরিবারের সদস্যদের খাওয়ানোর দায়িত্বও তাঁরই কাঁধে। শীত কিংবা বর্ষা, কোনো ঋতুতেই তাঁর এই কঠোর রুটিনের কোনো পরিবর্তন নেই। পরিবারের বর্তমান প্রেক্ষাপটও বেশ চ্যালেঞ্জিং। চার বছর আগে স্বামী দুলাল তাঁতী মারা যাওয়ার পর সংসারের সম্পূর্ণ ভার এখন টুনির ওপর। ছয় সন্তানের মধ্যে চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে ছোট মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। নিবন্ধিত রাবার শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা হলেও, টুনি এখনো নিবন্ধিত হতে পারেননি। ফলে তাঁর দৈনিক মজুরি মাত্র ১৪০ টাকা। এই অভাবের মধ্যেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে টুনি স্বপ্ন দেখেন। নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট মেয়ে ও ছেলের পড়াশোনা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। টুনির আকুতি, তাঁর ছেলে যেন বড় হয়ে তাঁর মতো শ্রমিক না হয়, বরং পড়াশোনা করে জীবনে ভালো কিছু করুক। SHARES লাইফস্টাইল বিষয়: চা-বাগানজীবনসংগ্রামটুনি তাঁতীরাবার শ্রমিকশ্রীমঙ্গল