বেশি খেয়েও ওজন বাড়ে না কেন? জেনে নিন স্বাস্থ্যকর উপায়

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

শরীরের গড়ন একটু চিকন হলেই অনেকে ‘হ্যাংলা’, ‘পাতলা’ বা ‘রোগা’র মতো নানা নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে পান। অনেকে মনে করেন ওজন কম মানেই শারীরিক দুর্বলতা, যা সবসময় সত্যি নয়। বাস্তবতা হলো, কম ওজনের মানুষও যথেষ্ট শক্তিশালী ও কর্মক্ষম হতে পারেন। তবে নিয়মিত প্রচুর খাবার খেয়েও ওজন না বাড়া বা একই জায়গায় আটকে থাকা অনেকের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ওজন বাড়ার বিষয়টি মূলত ব্যক্তির বিপাকক্রিয়া, খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন পরিশ্রম, ঘুম এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই রাতারাতি ওজন বাড়ানো সম্ভব নয়, বরং জীবনযাপন ও খাবারের ধরনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বাড়ানো ওজন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বাঙালির খাদ্যতালিকায় ভাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা থেকে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়। তবে শুধু ভাতের পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার যোগ করে খাদ্যতালিকা ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে। একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে দিনের খাবারকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে খাওয়া শরীরের জন্য বেশি কার্যকর। প্রধান খাবারের পাশাপাশি বাদাম, দই, ডিম, দুধ বা কলার মতো পুষ্টিকর নাশতা তালিকায় রাখা যেতে পারে।

অনেকে খাওয়ার ঠিক আগে প্রচুর পানি পান করেন, যার ফলে পেট ভরে যায় এবং স্বাভাবিক খাবারের পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই খাবারের আগে অতিরিক্ত পানি পান না করে দিনের অন্যান্য সময়ে পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস করুন। আবার ওজন বাড়ানোর জন্য চা-কফিতে অতিরিক্ত চিনি, দুধ, ক্রিম বা মালাই যোগ করা স্বাস্থ্যকর কৌশল নয়। ক্যালোরি বাড়লেও অতিরিক্ত চিনি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল বয়ে আনে না। এর পরিবর্তে দুধ, দই, ডিম, বাদাম, বীজ, মাছ ও মাংসের মতো পুষ্টিকর ও ক্যালোরিসমৃদ্ধ খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি কার্যকর।

পর্যাপ্ত ঘুম এবং শরীরচর্চার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। ওজন বাড়াতে গিয়ে ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়; বরং পেশি ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত স্ট্রেংথ ট্রেনিং বেশ উপকারী। পর্যাপ্ত খাবারের সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে শুধু ভারী নয়, বরং শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে। এছাড়া ধূমপান বা মাদকের মতো বদভ্যাস থাকলে তা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ানোর পরিকল্পনায় বাদ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

যদি নিয়মিত ও পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ওজন না বাড়ে, তবে একে শুধু ‘বেশি খাওয়া দরকার’ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অনেক সময় হজমের সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওজন বাড়তে চায় না। এমন পরিস্থিতিতে নিজের মতো করে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া বা নানা ধরনের সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ওজন বাড়ানোর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু শরীরের ওজনের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং পুষ্টি, শক্তি ও সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। চিকন শরীর নিয়ে অন্যের মন্তব্যে হতাশ না হয়ে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।