প্রতি রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায় প্রকাশিত: ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৬ ব্যস্ততা, কাজের চাপ কিংবা পড়াশোনার অজুহাতে অনেকেই রাতের ঘুমের সঙ্গে আপস করেন। অনেকেই মনে করেন, ঘুমের সময় কমিয়ে বাড়তি কাজ করা খুব একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরের ভেতরে নীরবে নানা জটিল সমস্যার জন্ম দেয়। বিশেষ করে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালীর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতি রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানোর সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন ও স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি সরাসরি সম্পর্কিত। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার আশঙ্কাও বেড়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে হৃদ্রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। ঘুমকে কেবল বিশ্রাম হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ঘুমের সময় রক্তচাপ, হৃদ্স্পন্দন, হরমোনের ভারসাম্য, বিপাকীয় কার্যক্রম এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষ করে গভীর ঘুমের সময় রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দন কিছুটা কমে গিয়ে হৃদ্যন্ত্রকে দিনের ব্যস্ততার পর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেয়। নিয়মিত ঘুম কম হলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, যার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। কম ঘুমের কারণে শরীরে স্ট্রেস হরমোন যেমন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা রক্তচাপ ও হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতিতে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি হতে পারে, যা রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। একই সঙ্গে এটি রক্তে শর্করা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা ও ইনসুলিন প্রতিরোধের মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনিয়মিত ঘুম স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে হৃদ্স্পন্দনের ছন্দেও প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালে আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা এবং ২০২৫ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউরোসায়েন্স’-এ প্রকাশিত গবেষণায় ঘুমের সময়কাল ও কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান ও নিয়মিত অভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা, সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা, রাতে স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা উচিত। এছাড়া নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কাজের চাপে সাময়িক সময় বাঁচলেও দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত ঘুমকে অবহেলা করা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। SHARES লাইফস্টাইল বিষয়: ঘুমজীবনধারাসচেতনতাস্বাস্থ্যহৃদ্রোগ