স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: প্রেসিডেন্ট ফখরুল

প্রকাশিত: ৪:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো 'আয়নাঘর' বা গোপন বন্দিশালা থাকবে না। রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে 'আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস' উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এখন থেকে আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য বা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।

গুমের মতো ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গোপন বন্দিশালার দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। তিনি আরও বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী বা ভিন্নমতাবলম্বীদের স্তব্ধ করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে গুম ও গোপন হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে, যা সবসময় অস্বীকার করা হয়েছে।

তিনি অঙ্গীকার করেন যে, প্রতিটি গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের, তারা যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, 'এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সকল পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে।' গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোকে রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে যথাযথ সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট গুমের শিকার ব্যক্তিদের এবং তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান। তিনি সেই সব মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের কথা স্মরণ করেন যারা বছরের পর বছর তাদের স্বজনদের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, গুম শুধু একটি মানুষকে কেড়ে নেয় না, বরং প্রিয়জনদের শান্তি, স্বপ্ন এবং সামাজিক স্বস্তি ধ্বংস করে দেয়।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।'