খুব স্বল্প সময়ে লোডশেডিং কমবে: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

দেশে বর্তমানে চলমান লোডশেডিংয়ের পরিমাণ খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের চাপ এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অতীতে বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বড় শহরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে নীতিগত অগ্রাধিকার থাকলেও, সরকার শুধু শহরে ক্ষমতাবান মানুষের বসবাসের কারণে সেখানে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। এই সংকটকালীন সময়ে সবাইকে এর কষ্ট ভাগ করে নিতে হবে। তিনি আরও জানান, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়াতে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় পুনর্বণ্টনের ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রবণতায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলক কম ছিল।

এছাড়া, অতীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতির তথ্য আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। একই সাথে তিনি জানান, ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।