দানে কমে না সম্পদ, বাড়ে রিজিক ও দূর হয় বিপদ

প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

ইসলামে দান করার গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। তবে দান করার দুটি ভিন্ন দিক রয়েছে—একটি পাপের এবং অন্যটি পুণ্যের; একটি কল্যাণের এবং অপরটি অকল্যাণের। যে দান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং কল্যাণের পথে করা হয়, কেবল তা-ই মানুষের জন্য পুণ্য ও উপকার বয়ে আনে। পক্ষান্তরে, পাপের পথে দান করা হলে তা উপকারের বদলে সমাজে অনর্থ ও অপকার সৃষ্টি করে। তাই ইসলামে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে দান করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহর পথে দান করলে দাতার রিজিক ও সম্পদ কমে না, বরং বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দুনিয়াতে কাউকে ধার দেওয়া হলে তা ফেরত পেতে অনেক সময় টালবাহানা বা কালক্ষেপণ সহ্য করতে হয়। কিন্তু মহান আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর পথে ব্যয় করা, যার প্রতিদান তিনি ইহকাল ও পরকালে বহুগুণ বাড়িয়ে ফেরত দেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৭৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-খয়রাতকে বর্ধিত করেন।' একই সুরার ২৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'এমন কে আছে, যে আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ। অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন। আর তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।'

মানুষের অন্যায় ও পাপের কারণে আল্লাহর অসন্তুষ্টি তৈরি হয়। এই অসন্তুষ্টি, দৈনন্দিন দুর্ঘটনা, বালা-মসিবত এবং মন্দ মৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো আল্লাহর পথে দান-খয়রাত করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'দান-খয়রাত আল্লাহতায়ালার অসন্তুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং মন্দ মৃত্যু রোধ করে।' (তিরমিজি : ৬৬৪)।

মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ভুলভ্রান্তি ও পাপ মোচনেও দান অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। গোপনে দান করার ফজিলত সম্পর্কে সুরা বাকারার ২৭১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, 'যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত করো, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে করো এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। আল্লাহ তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। তিনি তোমাদের কাজকর্মের খবর রাখেন।' এ ছাড়া সুনানে ইবনে মাজাহ-র ৪২১০ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'হিংসা বা পরশ্রীকাতরতা নেক আমলগুলো খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন জ্বালানি কাঠ খেয়ে ফেলে। দান-খয়রাত গোনাহগুলো বিলীন করে দেয়, যেমন পানি আগুন নেভায়।'

আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব সাতশত গুণ বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। সুরা বাকারার ২৬১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, 'যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মতো; যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। প্রত্যেকটি শীষে একশত করে dন থাকে। আল্লাহ অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ।' সুনানে নাসাঈর ৩১৮৬ নম্বর হাদিসেও রাসুল (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো কিছু দান করবে, তার জন্য সাতশত গুণ সওয়াব লেখা হবে।' বুখারি শরিফের ৭৪৩০ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ দান করলেও আল্লাহ তা কবুল করেন এবং তা এমনভাবে লালন-পালন করতে থাকেন, যেমন মানুষ ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন-পালন করে। অবশেষে সেই সামান্য দানটি পর্বতের মতো বিশাল আকার ধারণ করে।

পরকালে কঠিন বিপদের দিনে দানকারী ব্যক্তি আল্লাহর আরশের নিচে আশ্রয় লাভ করবেন। বুখারি শরিফের ১৪২৩ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন যখন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, তখন যে সাত প্রকার মানুষ সেখানে আশ্রয় পাবেন, তাঁদের একজন হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এত গোপনে দান করেন যে তাঁর ডান হাত কী দান করল, বাম হাত তা জানতে পারে না। এ ছাড়া সুনানে বায়হাকির ৩৩৪৭ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, 'দান অবশ্যই কবরবাসীর কবরের উত্তাপ ঠান্ডা করে দেবে এবং মোমিন ব্যক্তি কেয়ামতে আল্লাহর ছায়ায় অবস্থান করবে।'