দুদকের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার: আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নিজের বিরুদ্ধে দুদকে দায়ের করা অভিযোগের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই—এটা কীভাবে সম্ভব?' ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা: এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রকৃত তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালে তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে পদায়ন ও বদলি নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে ১১২ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর এই কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় এই দায়িত্ব বাতিল করে। এটি আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ ছিল, তার ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ও পছন্দের জায়গায় পদায়নের বিনিময়ে ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগটিকেও তিনি ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন। আসিফ মাহমুদ জানান, অভিযোগটি ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল করা হলেও পদোন্নতির আদেশ হয়েছিল ১১ মে। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে এই পদোন্নতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততার সুযোগ ছিল না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, অভিযোগ যদি সঠিক হতো, তবে তখনকার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান না করে কেন তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুদক পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং সংস্থাটি এখন রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানো ও হয়রানি করার লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ সময় তিনি দুদকের মুখপাত্রের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, প্রথমে অভিযোগের 'প্রাথমিক সত্যতা' পাওয়ার কথা বলে পরে তা ভুল ছিল দাবি করা এবং বক্তব্য প্রত্যাহার না করা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে 'মিডিয়া ট্রায়াল' হিসেবে অভিহিত করে এ বিষয়ে আইনি পথে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।