ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা সরকারের প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ডেঙ্গু সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে—এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের সাথে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। এই বিশেষ অভিযানে সরকারি স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া মসজিদের ইমাম ও স্কুল হেলথ কর্মসূচির মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনে নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং স্যালাইন, ওষুধ বা শনাক্তকরণ কিটের ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতালের নিজস্ব তহবিল থেকে তা সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন যে, হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে পর্যাপ্ত কিট ও স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপনসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ফিল্ড হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যা বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), আইইডিসিআর, এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। SHARES জাতীয় বিষয়: জনসচেতনতাডেঙ্গুপরিচ্ছন্নতা অভিযানস্বাস্থ্য অধিদপ্তরস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়