যুক্তরাজ্য ভাঙনের পথে? নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ড প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ যুক্তরাজ্য কি এবার ভেঙে যাওয়ার পথে? দেশটির অখণ্ডতার সামনে এই মুহূর্তে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বৃহত্তর আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের অধিকারের দাবিতে এবার একজোট হচ্ছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের এই তিন স্বশাসিত অঞ্চলের নেতারা ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক নজিরবিহীন সম্মেলনে মিলিত হতে যাচ্ছেন। সেখানে তারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন, যেখানে স্বাধীনতার গণভোট আয়োজন এবং নিজেদের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার দাবি করা হবে। ওয়েস্টমিনস্টারের জন্য রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এক সময়ে এই বৈঠক হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এমপিদের জানিয়েছেন, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার আরেকটি গণভোটের পক্ষে যদি ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তাহলে তিনি সেই গণভোটের অনুমোদন দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম ইংল্যান্ডের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণকে তার রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান অংশ করেছেন। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সোয়িনি দাবি করেছেন, বার্নহাম এখন হয়তো এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন, যার অর্থ তিনি ইতিহাসে ‘যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে স্থান পেতে পারেন। গত মে মাসে ওয়েলসের নির্বাচনে লেবার পার্টির দুর্বল ফলাফলের পর স্বশাসিত অঞ্চলগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড—এই তিন অঞ্চলেই স্বাধীনতাপন্থী দলগুলোর নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে। কার্ডিফের সেনেডে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে প্লেইড কামরু। এর ফলে দলটির নেতা রুন আপ আইওরওয়ার্থের ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার হওয়ার পথ তৈরি হয়। স্কটল্যান্ডে ছয়টি হলিরুড আসন হারালেও এসএনপি এখনো প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে, তবে সেখানে রিফর্ম ও গ্রিনস দল আসন বাড়িয়েছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডেও ২০২৪ সাল থেকে সিন ফেইনের নেতৃত্বে সরকার চলছে, যেখানে ওই বছর মিশেল ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টার হন। এর আগে ২০২২ সালের স্টর্মন্ট নির্বাচনে সিন ফেইন সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছিল। তবে ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) সরকারে অংশ নেয়া থেকে সরে দাঁড়ানোয় নির্বাহী পরিষদ গঠনে বিলম্ব হয়েছিল। আগামী বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডে আবার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখানে সিন ফেইনই ক্ষমতা ধরে রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কার্ডিফের এই সম্মেলনে তিন অঞ্চলের তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইনের প্রেসিডেন্ট ও বিরোধীদলীয় নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও অংশ নেবেন। কার্ডিফ বে-র দিকে তাকিয়ে থাকা পাঁচ তারকা সেন্ট ডেভিড’স হোটেলে নেতারা আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে নতুন করে প্রচারাভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: উত্তর আয়ারল্যান্ডওয়েলসগণভোটযুক্তরাজ্যস্কটল্যান্ড