এসএসসির পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫

প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে অনেক শিক্ষার্থীর ফলে। নতুন ফলে অকৃতকার্য বা ফেল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৮৫ জন পাস করেছেন। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী। এ ছাড়া আরও বহু শিক্ষার্থীর বিভিন্ন বিষয়ে ফল পরিবর্তিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (10 September 2026) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে একযোগে এই পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও তাদের ফল জানতে পারছেন। পাশাপাশি আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই হিসেবে মূল ফল প্রকাশের ঠিক ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষার এই ফল প্রকাশ করা হলো। এই প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছিল গত ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ২৪ দিনের মাথায় চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করল শিক্ষা বোর্ডগুলো।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী তাদের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আবেদন করার সুযোগ থাকায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে মোট আবেদনের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে। সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্রসহ মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সনাতন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবারই প্রথম আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে। আগের নিয়মে কেবল উত্তরপত্রে নম্বর যোগ করার ক্ষেত্রে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো; পুরো খাতা নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা প্রতিটি উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

বোর্ডভিত্তিক আবেদনের তথ্যে দেখা যায়, এবার সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন।

অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে কুমিল্লায় ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি এবং দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। সাধারণ বোর্ডের বাইরে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন।