লং মার্চে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমাধান সম্ভব নয়, বিরোধী দলকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রকাশিত: ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে লং মার্চের মতো কর্মসূচি কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের দুর্ভোগকে পুঁজি করে উত্তেজনা না ছড়ানোর জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লং মার্চ করে যদি গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো, তবে সরকারি দলই সবার আগে এই কর্মসূচির আয়োজন করত। বর্তমান সংকটের সময় বিরোধী দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত এবং উসকানি না দিয়ে সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশে থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি; গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কার্যকর উদ্যোগের অভাব ছিল। তৎকালীন সরকারের অদূরদর্শিতার কারণে বঙ্গোপসাগরে কূপ খনন না করায় জ্বালানি চাহিদার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০ থেকে ১২ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তেল ও গ্যাস আমদানিতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটায় গ্যাস সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তবে সরকার এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দুই বছর আগের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আগের ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প ও ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের কাজ করছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ২০২২ সালে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুইক রেন্টাল কেন্দ্র স্থাপন করলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হয়নি, বরং রাষ্ট্র ঋণগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লং মার্চ কর্মসূচিকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, এতে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া ১ হাজার ৪০০ শহীদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষের ত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা হবে এবং এতে পরাজিত ফ্যাসিবাদী চক্র লাভবান হতে পারে।

নিজের দলের অতীত সাফল্যের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সত্তরের দশকে দেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছিল এবং রেমিট্যান্সের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। ১৯৯১ সালের সরকারের সময় এবং বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে শিক্ষাব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে যে সাফল্য এসেছিল, তা বর্তমান সরকারের অনুপ্রেরণা। অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার দ্রুত সংকট কাটিয়ে একটি স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।