২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ঋণনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধাকর, উন্নয়নকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সংস্কারের চিত্র তুলে ধরেন। ড. তিতুমীর বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে হলে দেশে উৎপাদন ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতের সংকট নিরসন করে জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর পাশাপাশি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। দেশের জ্বালানি খাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে গড়ে ওঠা স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, এর ফলে দেশে একদিকে যেমন বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে বৈষম্যও প্রকট হয়েছে। গত জুলাই মাসের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ দেশের বৈষম্যবিরোধী মানুষের সেই পুঞ্জীভূত আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ পেয়েছে। বৈষম্য কমিয়ে সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করতে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিগত সময়ে শাসকদের পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে যে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। শাসনব্যবস্থার সঙ্গে ক্ষমতা, নীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো জড়িত থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা সব সময় সামাজিক অন্তর্ভুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করে ড. তিতুমীর বলেন, প্রতিষ্ঠান বলতে কেবল আইন, বিধিমালা বা বাহ্যিক সাংগঠনিক কাঠামোকে বোঝায় না; এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের রীতি-রেওয়াজ ও সামাজিক মূল্যবোধও জড়িয়ে রয়েছে। এ কারণে দেশের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়েই নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়েও গবেষণার তাগিদ দেন তিনি, যাতে মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্ক্ষা—সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। SHARES জাতীয় বিষয়: অর্থনৈতিক পরিকল্পনাবাংলাদেশ অর্থনীতিবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনরাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর১ ট্রিলিয়ন ডলার