ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে এআই ও সাইবার নিরাপত্তা যুক্ত হচ্ছে

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর বিজয় সরণিস্থ নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি কেবল মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক নয়, বরং টারশিয়ারি বা উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও স্টেম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যাথমেটিক্স) শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে তাল মেলাতে সরকার স্টেম শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং নতুন উদ্যোক্তা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এই শিক্ষার সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রায় আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠানে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, পুঁথিগত বিদ্যার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বাস্তব প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কারিকুলাম সংস্কার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের জন্য সনদ বা তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে ব্যবহারিক দক্ষতার সমন্বয় বেশি প্রয়োজন।

শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সাথে শিক্ষা নামে একটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা। এছাড়া কারিগরি শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার মূলধারায় নিয়ে এসে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য এটি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন আরও বলেন, এই উদ্যোগ সফল করতে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্প খাতের সমন্বয়ে একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা জরুরি। তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইউনিকর্ন বা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকার নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশি তরুণরা বিশ্বমঞ্চে সুনামের সাথে কাজ করছেন, তাই ব্রেন ড্রেন রোধ করে ব্রেন সার্কুলেশন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

‘স্টেম ফর আ্য ফিচার-রেডি বাংলাদেশ: বিল্ডিং দ্য ব্যাকবোন অব দ্য ইনোভেটিভ ইকোনোমি’ শীর্ষক ওই সেমিনারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি-আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম।