শৈশবের গন্ধমতিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলো অপ্রতিম প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ যেখানে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেই কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাড়ির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি উপশহরের গন্ধমতি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টায় তার বাসা সংলগ্ন গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা দুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বজন ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তেরো বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ছিল। সে স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার বিকেলে, যখন অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। শনিবার দুপুর ১টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর শনিবার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া আটক এক কিশোরের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও বিস্তারিত ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানান, অপ্রতিমের পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়ায় এবং নানার বাড়ি চাঁদপুরে হলেও সে কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকাতেই জন্ম ও বড় হয়েছে। পরিবারের ইচ্ছানুসারেই তাকে বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: অপ্রতিমকুমিল্লাকোটবাড়িদাফনহত্যাকাণ্ড