হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলের স্বাক্ষরের পর ৫০০ পৃষ্ঠার এই রায়টি রোববার প্রকাশিত হয়। প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, প্রসিকিউশন এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। প্রতিটি প্রমাণিত অভিযোগে ১০ বছর করে সাজা হলেও তা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট দুই অভিযোগে তাকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইনুর বিরুদ্ধে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ৩ নম্বর অভিযোগে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ৬ নম্বর অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। এছাড়া ৭ নম্বর অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল প্রমাণিত হিসেবে গণ্য করেছেন।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সারাদেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ২৫ হাজার ছাত্র-জনতাকে আহতের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, হাসানুল হক ইনু শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়েরকৃত অপর একটি মামলায়ও বর্তমানে বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন।