বিজেএস পরীক্ষায় সফল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের চার শিক্ষার্থী। বুধবার প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সফল এই চার শিক্ষার্থী হলেন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মোছা. ফারজানা ফেরদৌসী, শরিফুল ইসলাম ও সুস্মিতা সরকার বৃষ্টি এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নূরজাহান আক্তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের চার শিক্ষার্থীর এমন সাফল্যকে বিভাগের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে সুস্মিতা সরকার বৃষ্টি বলেন, নিজের পরিশ্রম ও ভাগ্যের ওপর তার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর ২০২৪ সাল থেকে তিনি পুরোদমে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। অ্যাডভোকেটশিপ সনদ লাভের পর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। এ সময় তিনি তার সহপাঠী ও বিচারক আবু সাঈদ এবং সার্বক্ষণিক মানসিক সাপোর্ট দেওয়া বান্ধবী জ্যোতি, মেহেরিমা ও সুমির কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।

ভবিষ্যৎ বিজেএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুস্মিতা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় শুধু মেধাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মেধার চেয়েও বেশি পরিশ্রম ও পড়ার টেবিলে নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। নিজেকে নেতিবাচক পরিবেশ থেকে দূরে রেখে প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা পড়ার টেবিলে যুক্ত থাকা এবং নিজের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সিলেবাস ধরে তা পূরণ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

মোছা. ফারজানা ফেরদৌসী তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষা, পরিশ্রম, অনিশ্চয়তা এবং নিজের ওপর ভরসা রাখার অনেকগুলো পরীক্ষা অতিক্রম করে আজ তিনি বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি জানান, ন্যায়পরায়ণতার প্রতি সহজাত আকর্ষণ, আইন বিষয়ে গভীর আগ্রহ এবং মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা তাকে সবসময় বিচারক হওয়ার স্বপ্নের দিকে টেনে নিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আইন ও বিচার বিভাগের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান নিউটন। তিনি বলেন, এটি বিভাগের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের একটি দিন। চার শিক্ষার্থীর এই অর্জন নিঃসন্দেহে বিভাগের জন্য মর্যাদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন কর্মজীবনে তারা ন্যায়, সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা হলো দেশের বিচার বিভাগে সহকারী জজ পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা।