চুয়েট উপাচার্য পরিবর্তন: ড. সায়েমকে অপসারণে উত্তাল ক্যাম্পাস প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি। গত ২৭ জুলাই চার বছরের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণকারী অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী এই আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটবে, সেই অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে নিয়মিত ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে এবং বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। পরদিন ২৮ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ড. সায়েমকে সরানোর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়নি। ভুক্তভোগী অধ্যাপক ড. সায়েম সংবাদমাধ্যমকে জানান, দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করার সময় তিনি তার অপসারণের বিষয়টি জানতে পারেন। তাকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানো বা পূর্বসংকেত ছাড়াই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, এই পরিবর্তনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকেই চুয়েটে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন। শত শত শিক্ষার্থী হল থেকে বেরিয়ে মিছিল সহকারে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে গিয়ে জড়ো হন এবং কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, ড. সায়েমকে স্বপদে বহাল রাখতে হবে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পরবর্তী কর্মসূচি লিখিতভাবে জানানো হবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে তারা অবস্থান নেন। এ সময় ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ এবং ‘ভিসির চেয়ার কারে চায়, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের দাবি, ড. সায়েমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অগ্রহণযোগ্য এবং এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাকিব হাসান জানান, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা কারণ ছাড়াই ভিসিকে অপসারণের প্রতিবাদে তারা এই পথে নেমেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে না গিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। সব ধরণের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে তারা তাদের অবস্থান দৃঢ় করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তীতে নতুন কোনো উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়েটের এই অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পরে রাত ১২টার দিকে তারা হলগুলোতে ফিরে যান। SHARES ক্যাম্পাস বিষয়: উপাচার্যচট্টগ্রামচুয়েটশিক্ষা মন্ত্রণালয়শিক্ষার্থী বিক্ষোভ