জি৭ দেশগুলোর বাজারে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চলমান উদ্বেগ নিরসনে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে জি৭ ভুক্ত দেশগুলো। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভিডিও সম্মেলনের পর শুক্রবার এই সম্মিলিত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই জ্বালানি আগামী চার মাসের মধ্যে বাজারে সরবরাহ করা হবে, যার মধ্যে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল পাওয়া যাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আগে যে ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিল, তা আর কার্যকর করা হবে না। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে। এর আগে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের হুমকির তীব্র বিরোধিতা করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন।

জি৭ নেতাদের এই ভার্চুয়াল বৈঠকে ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেয়। বৈঠকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রেও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি বেশ সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

জি৭ দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা নিজেদের মধ্যে জ্বালানি ও জ্বালানি-সম্পর্কিত পণ্যের রপ্তানিতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে, বাজারে চাপ বাড়াতে পারে এমন যেকোনো নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্বের সব উৎপাদনকারী দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তাদের কাছে এখনো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে বলেছিলেন, ডিজেল সংকটের বোঝা যেন মার্কিন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর না পড়ে। এছাড়া মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ব্রিটিশ জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াটা ফাহনবুল্লাহর সঙ্গে কৌশলগত মজুত নিয়ে আলোচনা করেন। সবশেষে জি৭-এর এই সমন্বিত সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।