৬০ বছরে পা দিয়ে জীবনের হিসাব মেলাচ্ছেন জাহিদ হাসান প্রকাশিত: ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬ মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী জাহিদ হাসান ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৬০ বছরে পা রাখলেন। নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় মুখ আজও সমান দক্ষতায় দর্শকদের হাসাচ্ছেন ও কাঁদাচ্ছেন। তবে জীবনের এই পর্যায়ে এসে পেছন ফিরে তাকালে তিনি নিজের ভুল এবং নানা অনুতাপের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে ভুল করা স্বাভাবিক, আর বিগত দিনের ভুলের জন্য তিনি দুঃখিত। আগামী দিনগুলোতে মানুষের জন্য কিছু করার প্রবল আগ্রহ রয়েছে তাঁর। পরিবারের সব ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট হওয়ায় বয়সের ভার তাঁকে স্পর্শ করলেও পরিবারের কাছে তিনি এখনো ছোটই রয়ে গেছেন। জাহিদ হাসান জানান, নিজের ভালো থাকার পাশাপাশি সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার চিন্তা করেন তিনি, কারণ সবার উন্নতিতেই দেশের উন্নতি নিহিত। ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক এই অভিনেতা লন্ডনে উচ্চশিক্ষারত মেয়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ফোনে কথা বলার সময় মেয়ে যখন বাসার সবাইকে বা প্রিয় খাবার মিস করার কথা বলে, তখন জাহিদের মন খারাপ হয়ে যায় এবং অনেক সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছোটবেলা থেকে তিনি এমনিতেই আবেগপ্রবণ, ভালো কিছু শুনলে বা কারও কষ্ট দেখলে তিনি সহজেই চোখে পানি ধরে রাখতে পারেন না। জন্মদিনের স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে জাহিদ হাসান আটের দশকের শেষের দিকে ঢাকায় কাটানো মেসজীবনের সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। ১৯৮৯ সালের এক জন্মদিনে ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের মেসে নিজে ঝাড়ু দেওয়া ও রান্নার সেই কষ্টের স্মৃতি আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। তখন মেসজীবনের এক রুমমেটের আইনজীবী বাবা তাঁকে বলেছিলেন, এমন একদিন আসবে যেদিন সারা দেশের মানুষ তাঁর জন্মদিন পালন করবে। অভিনয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর সেই কথাটি প্রায়ই তাঁর মনে পড়ে। সিরাজগঞ্জ থেকে অভিনয় করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসা জাহিদ হাসানকে থিয়েটারে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। মেসজীবনের সেই কষ্ট তাঁকে ছাড় দেওয়া এবং ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো জীবনের বড় শিক্ষাগুলো শিখিয়েছে। তাঁর মতে, কষ্টের পরের সুখের স্বাদই অন্য রকম। SHARES বিনোদন বিষয়: অভিনয়শিল্পীজন্মদিনজাহিদ হাসাননাট্যকেন্দ্রবিনোদন