১৪৪ কোটি টাকায় চার লেনে উন্নীত হবে কেরানিহাট বাজার প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৬ দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানিহাট বাজার অংশটি যানজটের একটি বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই লেনের সরু সড়কে প্রতিদিন বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসের পাশাপাশি স্থানীয় যানের প্রচণ্ড চাপে এখানে ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়। কখনো কয়েকশ মিটার, আবার কখনো এই জট আশপাশের সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানগামী যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল হোসেনের মতে, এই যানজট এখন আর নির্দিষ্ট সময়ের সমস্যা নয়, বরং ব্যস্ত সময়ে প্রতিনিয়ত এখানে দীর্ঘ গাড়ির সারি দেখা যায়। যাত্রী আনিসুল ইসলাম জানান, এই সামান্য পথ পাড়ি দিতেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় ব্যয় করতে হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে কেরানিহাট বাজার থেকে সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা পর্যন্ত অংশে যানজট দীর্ঘদিনের নিত্যসঙ্গী। সড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ওভারটেকিং, হঠাৎ লেন পরিবর্তন এবং বাজার এলাকায় পথচারী পারাপারের কারণে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবশেষে এই জনদুর্ভোগ নিরসনে সুখবর এলো। মহাসড়কের কেরানিহাট বাজার অংশ চার লেনে উন্নীত করাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা গেলে যান চলাচল সুগম হবে, গাড়ির গতি বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। অবশেষে অবসান হতে যাচ্ছে এই দীর্ঘ দুর্ভোগের। কিন্তু সেই তুলনায় কেরানিহাট বাজারের সড়ক অবকাঠামো অনেকটাই পুরোনো। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ। গত ২৩ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বরাবর পাঠানো ডিও লেটারে তিনি কেরানিহাট অংশ চার লেনে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কারণে মহাসড়কটির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে, অথচ বাজারের অবকাঠামো রয়ে গেছে সেকেলে। তার এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা আসে। প্রকল্পটি অনুমোদনের খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রয়েছে সতর্কতা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানিয়েছেন, অনুমোদনের পর এখন মাঠপর্যায়ে জমি অধিগ্রহণ, বাজারের স্থাপনা সরানো এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের মতো বাস্তব কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত সমাধান করাই হবে প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এই প্রকল্পটি কেবল স্থানীয়দের দাবির প্রতিফলন নয়, এটি বৃহত্তর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিরাপদ ও দ্রুত যোগাযোগের জন্য একটি জরুরি উদ্যোগ। তাই তিনি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রকল্পের এই সুফল যেন জনগণ দ্রুত পায়, সেটিই এখন বড় প্রত্যাশা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক শুধু পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগের সড়ক নয়, এটি দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন। এতে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের পাশাপাশি চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বান্দরবান ও কক্সবাজারের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। SHARES জেলা/উপজেলা বিষয়: উন্নয়ন-প্রকল্পকেরানিহাটচট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কযানজট