চুয়েটে ব্যাংক ঘেরাও: বেতন-ভাতা পেলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২৬ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসন হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের হস্তক্ষেপে বেতন আটকে যাওয়ার প্রতিবাদে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ঘেরাও করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। টানা দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে সম্মত হয়। শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ বাকি সবার বেতনই আজকে পরিশোধ করা হবে।’। সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ব্যাংক ঘেরাও করে রাখা হয়। এ বিষয়ে চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী কম্পট্রোলার ও সহ-কম্পট্রোলের স্বাক্ষরেই এতদিন বেতন পরিশোধ করা হতো। কিন্তু নতুন উপাচার্য সেই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করায় বেতন আটকে যায়। তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রথাগত নিয়ম মেনেই বেতন দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক নিশ্চিত করেছেন যে, কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতনও এদিন পরিশোধ করা হচ্ছে। বেতন আটকে যাওয়ার নেপথ্যে ছিল উপাচার্যের দেওয়া একটি নির্দেশনা। অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম সোনালী ব্যাংককে ই-মেইলে জানিয়েছিলেন, উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া বিল পাঠানো চুয়েট আইন ২০০৩-এর ১৩(৭) ধারা অনুযায়ী অবৈধ। সেই ই-মেইলের ভিত্তিতেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লেনদেন বন্ধ রেখেছিল এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক জানিয়েছেন, পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানোকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ উল্লেখ করে তিনি চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭)-এর কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। তবে কিছুক্ষণ আগে আমাদের বেতনের মেসেজ এসেছে। উল্লেখ্য যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই নিয়োগের পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও ১৬ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন, যার ফলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। বুধবার টানা ১৬ দিনের মত এই কর্মসূচি চলছে। SHARES ক্যাম্পাস বিষয়: আন্দোলনউপাচার্যচুয়েটবিশ্ববিদ্যালয়বেতন-ভাতা