চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে: একদিনে আরও দুইজনের মৃত্যু প্রকাশিত: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬ চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জন। কেবল অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনেই সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৫৪ জন। বুধবার পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে আরও ৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৭১ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৬০ জন ভর্তি আছেন, যার মধ্যে ৫ হাজার ৪৯৪ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছিল সর্বোচ্চ, যেখানে ২ হাজার ৪৩০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। অক্টোবর মাসের প্রথম ১৪ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। এছাড়া আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০২ জন। বছরের শুরুর দিকে সংক্রমণের হার কম থাকলেও জুলাই মাসে ৫৩৬ জন, জুনে ১২২ জন, মে মাসে ৩৭ জন এবং এপ্রিলে ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে সীতাকুণ্ডে, যার সংখ্যা ৭৩০ জন। এছাড়া কর্ণফুলীতে ৩০১, বাঁশখালীতে ১৮৯, রাঙ্গুনিয়ায় ১৭১, সাতকানিয়ায় ১৩৯, আনোয়ারায় ১৩০, পটিয়ায় ১২২, রাউজানে ১১৫, হাটহাজারীতে ৯১, মিরসরাইয়ে ৯৭, বোয়ালখালীতে ৮৪, চন্দনাইশে ৯২, লোহাগাড়ায় ৭২, ফটিকছড়িতে ৫৭ এবং সন্দ্বীপে ৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সাম্প্রতিক দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ জন, বিআইটিআইডিতে ৮ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। দৈনিক হাসপাতালভিত্তিক প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৮ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন এবং উপজেলা স্বা। তবে উপজেলা-ভিত্তিক তালিকার মোট সংখ্যা এবং জেলার সামগ্রিক হিসাবের মধ্যে কিছু অসংগতি রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী চিত্রে দেখা যায়, ২০২২ সালে চট্টগ্রামে ৫ হাজার ৪৪৫ জন আক্রান্ত এবং ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত এবং ১০৭ জন মৃত্যুর রেকর্ড গড়েছিল। ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৩২৩ জন আক্রান্ত ও ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২০২৫ সালে আক্রান্ত ছিলেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন, যার মধ্যে ২৭ জন মারা যান। সব মিলিয়ে চলতি বছরের বর্তমান পরিস্থিতি গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় একটি উদ্বেগজনক অবস্থা তৈরি করেছে। SHARES স্বাস্থ্য বিষয়: চট্টগ্রামডেঙ্গুমশারোগ প্রতিরোধস্বাস্থ্যঝুঁকি