বার্লিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ডা. জোবাইদা রহমান, থাকছেন না ড. ইউনূস প্রকাশিত: ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬ জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংলাপে সমবেত হয়েছেন বিশ্বজুড়ে নীতিপ্রণেতা, বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। রবিবার শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬’-এ অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। তবে পূর্বনির্ধারিত আয়োজন সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে সম্মেলন থেকে বাদ পড়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দুটি অধিবেশনে এই দুই অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে ড. ইউনূস অংশ নিতে পারছেন না। সম্মেলনের যোগাযোগ ও প্রেসবিষয়ক পরিচালক আনা স্টর্মার নিশ্চিত করেছেন যে, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস বার্লিনে আসেননি। এর আগে সম্মেলনে তাঁর ‘গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড’ নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। অন্যদিকে, পেশাগত ভূমিকার বাইরেও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডা. জোবাইদা রহমান এই সম্মেলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি জনস্বাস্থ্য সংস্কার, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং দেশজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার বিকাশে কাজ করছেন। ড. ইউনূসের সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার খবরের মধ্যে আড়ালে রয়েছে বেশ কিছু ঘটনাপ্রবাহ। বার্লিন পুলিশ শনিবার বিক্ষোভের প্রধান সমন্বয়কারী মিজানুর হক খানকে ড. ইউনূসের অনুপস্থিতির কথা জানায়। এর আগে, জার্মান আওয়ামী লীগ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সম্মেলনস্থলের বাইরে ৪০০ মানুষের অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর জন্য পুলিশের লিখিত অনুমতি নিয়েছিল। এরও তিন সপ্তাহ আগে, ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূসের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে আয়োজকদের কাছে স্মারকলিপি ও পিটিশন পাঠায়। যৌথভাবে এই পিটিশন জমা দেয় বেলজিয়ামভিত্তিক সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য), ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি, আর্থ সিভিলিজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স। পিটিশনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। ডব্লিউএইচও জানায়, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী এবং ২ হাজার ৯৭৩ জন ল্যাব নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়। একই সময়ে প্রাদুর্ভাবে ১৬৬টি সন্দেহভাজন এবং ৩০টি নিশ্চিত মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যার মধ্যে আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশে অব্যাহত সংক্রমণ ও টিকাহীন শিশুদের ঝুঁকির কারণে পরিস্থিতিকে জাতীয় পর্যায়ে ‘উচ্চ ঝুঁকি’ বলে আখ্যা দেয়। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাত, ভ্যাকসিনের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর নিরপেক্ষ পর্যালোচনা প্রয়োজন, যেখানে তৎকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূস দায় এড়াতে পারেন না। তারা আয়োজকদের অনুরোধ জানায় ড. ইউনূসের বিশেষ বক্তার আমন্ত্রণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে, অথবা সম্মেলনে তাঁকে উন্মুক্তভাবে এই হাম প্রাদুর্ভাব ও জনস্বাস্থ্য ব্যর্থতা নিয়ে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও টিকাদান বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছিল। বার্লিনের বিখ্যাত শারিটে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০০৯ সালে প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের যাত্রা শুরু হয়। ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিবর্তন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই বার্ষিক ফোরামের এবারের ২০২৬ আসরের মূল বিষয় হলো ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন।’ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলতে থাকা এই সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার অংশীদারিত্বে বিশ্বজনীন স্বাস্থ্য সংকট নিরসনে নতুন পথের সন্ধান করা হচ্ছে। SHARES স্বাস্থ্য বিষয়: জনস্বাস্থ্যজোবাইদা রহমানবার্লিনবিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনমুহাম্মদ ইউনূসহাম প্রাদুর্ভাব