চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১০৮ প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬ চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৫৪ জনে, যেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৬ জন। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৬৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এতে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ, সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। অর্থাৎ, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ৮৩ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ২৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত মহানগরে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৬৬৭ জন এবং উপজেলাগুলোতে ২ হাজার ৩৮৭ জন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অন্য জেলা থেকে আসা ৬০০ জন রোগী চট্টগ্রামের হাসপাতালে সেবা নিয়েছেন। উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সবচেয়ে বেশি ৭২৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই রয়েছে কর্ণফুলী (২৯৮), বাঁশখালী (১৮৩) ও রাঙ্গুনিয়ার (১৬৭) মতো এলাকাগুলো। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায়ও সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। এরপর কর্ণফুলীতে ২৯৮, বাঁশখালীতে ১৮৩, রাঙ্গুনিয়ায় ১৬৭, সাতকানিয়ায় ১৩৬, পটিয়ায় ১১৮, আনোয়ারায় ১২৬, রাউজানে ১১১, মিরসরাইয়ে ৯৬, হাটহাজারীতে ৯০, চন্দনাইশে ৮৯, বোয়ালখালীতে ৮৪, লোহাগাড়ায় ৭২, ফটিকছড়িতে ৫৬ এবং সন্দ্বীপে ৩৫ জন আক্র। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০২ জন এবং অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৮৮ জন। এর আগে জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৩৬ জন। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২১ জন, জেনারেল হাসপাতালে ৪৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৫ জন, বিআইটিআইডিতে ৩২ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৩ জন এবং সিএমএইচ-এ ৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৯ জন। এর আগে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৩৬ জন। এ বছর মৃত ২৬ জনের মধ্যে ১২ জন উপজেলার, ১১ জন মহানগর এলাকার এবং তিনজন অন্যান্য জেলার বাসিন্দা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের পাশাপাশি জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান। তিনি জানান, বাড়িঘর, ছাদ, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবনসহ পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। জ্বর দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। SHARES স্বাস্থ্য বিষয়: চট্টগ্রামচট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগডেঙ্গুডেঙ্গু সংক্রমণস্বাস্থ্যঝুঁকি