চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি: মৃত্যুতে নারী ও শিশুরাই বেশি ঝুঁকিতে প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৬ চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে নারীদের ও শিশুদের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোববার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন নারী এবং সাতজন শিশু—অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৭৯ শতাংশই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। যদিও হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তবুও নারী ও শিশুদের মধ্যে প্রাণহানির এই হার গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর আক্রান্ত ও মৃত্যু হার বাড়লেও অক্টোবরে এসেও সেই চিত্র বদলায়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তবে বয়স, রোগের তীব্রতা, অন্যান্য শারীরিক জটিলতা ও চিকিৎসা নেওয়ার সময়-সংক্রান্ত তথ্য ছাড়া এই ব্যবধানের কারণ নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৮, যা ফেব্রুয়ারিতে কমে ২২-এ নেমে আসে। পরবর্তীতে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত আক্রান্তের হার কম থাকলেও জুলাই মাসে তা ৫৩৬ জনে পৌঁছায়। আগস্টে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ১ হাজার ২০২ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা এক লাফে ২ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বর মাসটি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা বছরের মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশ। সে হিসেবে মাসে বাকি দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা সেপ্টেম্বরকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওষুধও ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতেও মশা মরছে। অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৮৯ জন রোগী, যা গত বছরের পুরো অক্টোবর মাসের সমান। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৪ জন, বিআইটিআইডিতে ১০ জন এবং জেনারেল হাসপাতালে ১৩ জন রয়েছেন। বর্তমানে সব মিলিয়ে ২৫৮ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে আক্রান্ত ৯৮৯ জনে পৌঁছেছে, অথচ ২০২৫ সালে পুরো মাসে এ সংখ্যা ছিল ৯৯০ জন। আর মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে মাসে ৩৭ এবং জুনে ১২২ জন আক্রান্ত হন। উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সীতাকুণ্ড উপজেলা এখন ডেঙ্গুর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯৫ জন। এছাড়া কর্ণফুলীতে ২৯৫ জন, বাঁশখালীতে ১৭৩ জন এবং রাঙ্গুনিয়ায় ১৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। জেলাজুড়ে মোট ১৫টি উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৩১৪। সীতাকুণ্ডে আক্রান্তের হার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণের বেশি হওয়ায় সেখানে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ তৈরি হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শামীম মো. খান জানান, পরিস্থিতি গুরুতর হলেও তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট। তিনি দাবি করেন, ফগিং কার্যক্রম এখন আরও আধুনিক করা হয়েছে। ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতার বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন পদ্ধতিতে ফগিং করার পর মশা মরতে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে, তবে বর্তমানে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মশা নিধনে সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে নগরবাসী কঠিন পরিস্থিত পার করলেও সিটি কর্পোরেশনের বলছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৫৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৪ হাজার ৪৫৫ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিকে ১ হাজার জন চিকিৎসা নিয়েছেন। মোট ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৫ হাজার ১৯৭ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ব্যক্তিগত সতর্কতা এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৬১১ জন, নারী ১ হাজার ৫৮৭ জন এবং শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ২৫৭। SHARES স্বাস্থ্য বিষয়: চট্টগ্রামডেঙ্গুনারী ও শিশুমশা নিধনসিটি-কর্পোরেশনস্বাস্থ্যঝুঁকি