জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা

প্রকাশিত: ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বড় ধরনের প্রত্যাশা করছে টোকিও। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে সরকারি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২০ অক্টোবর দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের ঘোষণা দেয়। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জাপান সফরকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। জাপান বিশ্বাস করে, এটি আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, এবং মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করবেন।

সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাইকা, জেট্রো, জেবিআইসি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জাপানি বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই বা সহযোগিতার ঘোষণা আসতে পারে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফর নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং এটি প্রত্যাশার বাইরে সফল হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে ঢাকা-নারিতা রুটে বিমানের ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে সপ্তাহে একটির পরিবর্তে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে জাপান সফর করবেন এবং ২৯ অক্টোবর নতুন চালু হওয়া বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। বর্তমানে জাপানে ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী বসবাস করছেন, যা দুই দেশের সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগের চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়ন খাতের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে, যার মধ্যে মেট্রোরেল, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।