রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শীলার মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ হত্যা

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ফারহানা ইয়াসমিন শীলা (৪৩) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত শীলা রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীমের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বয়াতীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। পারিবারিক সূত্র জানায়, শীলার রাফিন (১৭) ও লাবিবা (১৩) নামে দুই সন্তান রয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই নিহতের পরিবারের স্বজনেরা একে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল দাবি করেন, শীলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার রাতেও শীলা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসিখুশি ছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, জমিজমা বিক্রির টাকা নিয়ে স্বামী রাসেলের সঙ্গে বিরোধ ছিল। তাদের ধারণা, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। আত্মহত্যার সময় বাঁচার চেষ্টার যে ধরনের আলামত থাকার কথা, তা তারা দেখতে পাননি বলে জানান।

নিহতের আরেক ভাই রাশেদুল ইসলাম সজল এবং চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সাগর প্রশ্ন তুলেছেন, রাসেল কেন পরিবারের কাউকে না জানিয়ে নিজেই মরদেহ নামিয়ে ফেললেন। শীলার মেয়ে লাবিবার বরাত দিয়ে স্বজনেরা আরও জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং শীলাকে মারধর করা হতো। অনেক সময় দরজা বন্ধ করে রাখলে শীলা বাইরে বসে কান্নাকাটি করতেন।

অন্যদিকে, স্বামী রাসেল বয়াতী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শীলার সঙ্গে তার এক বছরের সংসার। বুধবার রাতে রাসেল বাসায় গিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে তাদের মধ্যে সামান্য মনমালিন্য হয়। তবে পরে একসাথেই ঘুমিয়ে পড়েন৷ কিন্তু তাদের মধ্যে কথা কম হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেও খাওয়া-দাওয়া করে দুজন একসঙ্গেই ঘুমাতে যান। রাসেল জানান, শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের অন্য একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শীলাকে দেখতে পান। এরপর তিনি স্থানীয় এক দম্পতি ও চাচাতো ভাই সোহানকে ডেকে আনেন এবং নিজেই মরদেহ নামিয়ে বিছানায় রাখেন।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পায়নি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ এবং মৃত্যুর আগের দিন ঝগড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে।