গাজায় নিরস্ত্রীকরণে হামাসের সম্মতি, ট্রাম্পের কাছে ‘যুগান্তকারী’ উদ্যোগ প্রকাশিত: 9:32 AM, July 31, 2026 গাজা উপত্যকায় সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী সংগঠন। হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গাজার এই পদক্ষেপকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ১৪ দিনের মধ্যে প্রস্তুত করতে হবে, তবে আন্তর্জাতিক যাচাইকারী সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ এই আলোচনাকে ‘কঠিন ও জটিল’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা এমন একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। তবে হামাদ সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল যদি তাদের দায়বদ্ধতা পালন না করে, তবে হামাসও চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পুনর্গঠনের অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে গাজার শাসন তদারকির জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, এই চুক্তি গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা বোর্ড অব পিসের সঙ্গে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, গাজা আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র গাজার প্রশাসনের জন্য গঠিতব্য জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে পুলিশের কাছে থাকা অস্ত্র এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ভারী অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই নিরস্ত্রীকরণ গত অক্টোবরে তার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিরই অংশ। এই যুদ্ধের ফলে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং সেখানে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ও নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব গ্রহণ করবে। গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই হামাসের নেতারা কায়রোতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছেন। মিসরের আল-কাহেরা নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে গাজার আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এই চুক্তির খবর অস্বীকার করেছে এবং প্রচারিত নথির ভাষা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এর আগে গত ৬ জুলাই হামাস তাদের প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্তির ঘোষণা দেয়। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: গাজাডোনাল্ড ট্রাম্পনিরস্ত্রীকরণফিলিস্তিনমধ্যপ্রাচ্যহামাস