চীন-ভারত সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: 11:00 PM, July 30, 2026

বাংলাদেশের আঞ্চলিক সম্পর্ক, বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগের ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি, তাই তিনি ধরে নিচ্ছেন যে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ নেই।

বৈঠক শেষে মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আমার প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পেরে আমি আনন্দিত। অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান এবং তা কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে ম্যানিলায় সার্জিও গরের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল এবং একই সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ইতিবাচক অভিমুখে আছে এবং আগামী দিনগুলোতে আমরা এ পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যাব বলে তিনি জানান।

বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অভিবাসনসহ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এটি সার্বিক অগ্রগতির পথ নিয়ে আলোচনা ছিল, নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ই কথা বলতে পারবে। জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় কাজ চলমান থাকলেও গ্যাস অনুসন্ধান বা উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে সহায়তা পায়, তার অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়নি, তবে বাংলাদেশ আশা করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং সংকট সমাধানে বহুপাক্ষিক উদ্যোগে সহযোগিতা করবে। এছাড়া মিয়ানমারে কথিত মানবিক করিডোর নিয়ে কোনো প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন। বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডোর, আওয়ামী লীগ বা তাদের কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়েও কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।

সফরের তৃতীয় ও শেষ দিন শনিবার সকালে সার্জিও গরের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।