ঐশ্বরিয়ার গ্ল্যামারাস ইমেজ ভাঙতে চেয়েছিলেন সুভাষ ঘাই

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৬

বলিউডে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের পরিচিতি কেবল একজন অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, বরং সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হিসেবেও। তবে ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া 'তাল' সিনেমার নির্মাতা সুভাষ ঘাই চেয়েছিলেন, পর্দার ঐশ্বরিয়া যেন তার গ্ল্যামারাস পরিচিতির বাইরে একজন সাধারণ ও স্বাভাবিক তরুণী হিসেবে দর্শকের সামনে আসেন। সম্প্রতি সিনেমাটির ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুরোনো স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নির্মাতা ঐশ্বরিয়াকে মানসী চরিত্রের জন্য প্রস্তুত করার সেই বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সেই সময় বিশ্বসুন্দরী হিসেবে ঐশ্বরিয়ার ব্যাপক পরিচিতি ছিল এবং দর্শকের কাছে তার গ্ল্যামারাস উপস্থিতিই ছিল মুখ্য। কিন্তু 'তাল' সিনেমায় মানসী চরিত্রটি ছিল ছোট শহর থেকে উঠে আসা এমন এক তরুণী, যার মূল ভিত্তি ছিল গান ও নাচের প্রতি ভালোবাসা এবং স্বপ্ন। এই চরিত্রে স্বাভাবিকতা ও আবেগ ফুটিয়ে তোলার প্রয়োজনে সুভাষ ঘাই অভিনেত্রীর প্রচলিত ইমেজ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।

পরিচালক ঐশ্বরিয়াকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, সিনেমার প্রয়োজনে শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা তাকে কোনো মেকআপ ছাড়াই ক্যামেরার সামনে থাকতে হবে। সুভাষ ঘাইয়ের এই পরিকল্পনার প্রতি ঐশ্বরিয়া পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন এবং কোনো আপত্তি জানাননি। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের পরিচিত লুক থেকে সরে আসতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তই মানসী চরিত্রকে দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। অনিল কাপুর ও অক্ষয় খান্নার সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার অভিনয় এবং সিনেমার সংগীত ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সুভাষ ঘাইয়ের মতে, 'তাল' ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা, কারণ এটি তার সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিনয়ক্ষমতাকেও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে আসে।

দীর্ঘ সময় পর 'তাল' নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সুভাষ ঘাই জানিয়েছেন, 'তাল ২'-এর চিত্রনাট্যের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও তারকার জনপ্রিয়তার চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অর্থাৎ, প্রথম সিনেমার মতো এবারও চরিত্রের মধ্য দিয়েই অভিনয়শিল্পীদের তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে নির্মাতার।