চলচ্চিত্রে ব্যস্ত সময় ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বললেন নাজিফা তুষি

প্রকাশিত: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে নাজিফা তুষি অভিনীত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। এর কিছুদিন আগেই দেশের বাইরে থেকে ‘রইদ’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। দুই ঈদে জোড়া কাজ, ওটিটিতে ইতিবাচক সাড়া এবং ঈদের নতুন সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী। মনজুরুল আলমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের এই বদলে যাওয়া ক্যারিয়ার ও প্রাপ্তির গল্প শুনিয়েছেন তুষি।

একসময় সিনেমার পারিশ্রমিক দিয়ে জীবন ও জীবিকা চালানো সম্ভব হবে কি না, তা ভাবতেও পারতেন না তুষি। তবে এখন সেই পারিশ্রমিকই তাঁর আয়ের মূল উৎস। ‘হাওয়া’, ‘প্রেশার কুকার’ কিংবা ‘রইদ’-এর মতো চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধীরে ধীরে তৈরি করেছেন তিনি। তুষি জানান, ‘হাওয়া’ মুক্তির পর অনেকে মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি কাজের মাঝ থেকে গায়েব হয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি নীরবে ধৈর্য ধরে কাজ করে গেছেন। সেই কাজগুলো এ বছর একসঙ্গে পরপর আলোর মুখ দেখায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তুষি বলেন, ‘আমি যে সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে ছিলাম, এ–ই তার প্রমাণ। আমি কখনোই হাওয়া হইনি। এ বছর এত কিছু পাব ভাবিনি। রঙিন এই সুন্দর সময় যেন ফুরিয়ে না যায়, মন থেকে চাই রঙিন সময়টা থেকে যাক, কারণ নিজেকে আরও এক্সপ্লোর করতে চাই।’

চলতি বছরের শুরুতেই তুষি অভিনীত ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’ রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হওয়ার খবর আসে। এরপর দুই ঈদে মুক্তি পায় ‘প্রেশার কুকার’ ও ‘রইদ’। পাশাপাশি সাদের পরিচালনাধীন একটি ওয়েব সিরিজ ‘অ্যানি’ জার্মানির একটি উৎসব থেকে শুভসংবাদ বয়ে আনে। রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’ সিনেমার প্রচারণা নিয়েও বেশ আলোচনায় ছিলেন তিনি। শুরুতে এই সময়ে ‘আন্ধার’ মুক্তির কথা থাকলেও প্রযোজকের সিদ্ধান্তে সিনেমাটি আগামী বছর ২৬ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে আসবে। দ্রুততম সময়ে পোস্টপ্রোডাকশন না করে সঠিক প্রচারণা ও মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত সময়ে মুক্তির এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তুষি।

বিনা পরিকল্পনায় মিডিয়া অঙ্গনে যাত্রা শুরু করা তুষি জানান, গত তিন বছরে একটু একটু করে নিজেকে কাজের জন্য গড়ে তুলেছেন। তাঁর মতে, কাজের পথচলা এখনো অনেক বাকি এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় চরিত্র করার ইচ্ছা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিংহভাগ গল্প পুরুষকেন্দ্রিক হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীকেন্দ্রিক গল্পের সংখ্যা বাড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। এর জন্য নারী শিল্পীদেরও যোগ্যতা দিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন তুষি।

দর্শকদের পক্ষ থেকে উঠে আসা বিভিন্ন প্রশ্ন ও মন্তব্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তুষি জানান, বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় দেখা না যাওয়া বা নাচের দক্ষতার বিষয়ে যে কথাগুলো ওঠে, কাজের মাধ্যমেই সেগুলোর উত্তর দিতে চান তিনি। এতদিন নিজের পছন্দমতো ভাঙাগড়ার সুযোগ না পেলেও এবার নতুন ঘরানার চিত্রনাট্যে কাজ করছেন। আগামী বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে যাওয়া একটি চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো মূলধারার বাণিজ্যিক রূপরূপে আত্মপ্রকাশ করবেন তিনি, যেখানে গান, নাচ ও মারপিটের উপাদানও থাকতে পারে। থ্রিলার ও হররসহ একাধিক জনরায় নিজেকে মেলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রচারাভিযানে গিয়ে তরুণদের কাছ থেকে সরাসরি ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এক নারী শিক্ষার্থী মাইক্রোফোন হাতে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা জানিয়ে তাঁকে ভালোবাসার কথা বলেন। সমসাময়িক অভিনয়শিল্পীরা নাটকে অভিনয় করে থিতু হলেও তিনি বেছে নিয়েছিলেন অনিশ্চিত চলচ্চিত্রের পথ। ক্যারিয়ারের শুরুতে যা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, আজ তা তরুণদের অনুপ্রাণিত করায় নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মনে করেন তুষি। তবে পুরস্কার বা প্রাপ্তির চেয়ে পরিবারের সমর্থন ও দর্শকদের ভালোবাসাকেই মূল কাজের প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে তুষি জানান, চরিত্রের মাঝে বেঁচে থাকতে তিনি সামনে আরও কঠোর পরিশ্রম করে যাবেন।