আবাহনী ক্লাবের চুক্তি বাতিল, সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে ধানমন্ডি মাঠ

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী মাঠটি এখন থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। চুক্তি ভঙ্গ করার অভিযোগে আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানান, গত ১১ মে আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে করা চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া মাঠে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ এবং সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়াসহ চুক্তির বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তিতে যেকোনো স্থাপনা তৈরির জন্য পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা থাকলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তা অমান্য করেছে। দেশের যেকোনো স্থানে খেলার মাঠ দখল বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "খেলার মাঠ থাকবে, বাচ্চারা খেলবে, এটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।" কোনো মাঠ দখলের তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, মাঠটি কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন থাকবে। ইতোমধ্যে নির্মিত অবকাঠামোগুলো না ভেঙে সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আবাহনী ও ধানমন্ডি ক্লাবকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ক্লাবগুলোর বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই মাঠ ও অবকাঠামো ব্যবহারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আবাহনী তাদের মাঠে খেলবে এবং পাশাপাশি অন্য খেলাধুলার সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে খালি জায়গা পাওয়া গেলে আধুনিক খেলার মাঠ বা ফুটসাল কোর্ট তৈরি করা হবে, যা শিশু-কিশোর ও বয়স্করা সবাই ব্যবহার করতে পারবেন। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এবারের বাজেটে ক্রীড়া খাতের জন্য আলাদাভাবে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, আর্চারি ও শুটিংয়ের মতো সব খেলাকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলমসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।