কুষ্টিয়ার মোকামে চালের দাম বৃদ্ধি, খুচরা বাজারে অস্থিরতা প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালের মোকামে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির ঢেউ সরাসরি খুচরা বাজারে পড়েছে, যার ফলে বাসমতি, মিনিকেট, কাজল লতা, আটাইশ ও স্বর্ণা জাতের চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শহরের মিলপাড়ার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া পৌরবাজারে চাল কিনতে এসে জানান, গত সপ্তাহে ২৫ কেজি ওজনের মিনিকেট চালের বস্তা ১ হাজার ৬২৫ টাকায় কিনলেও এখন তা ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধির জন্য তিনি বাজার মনিটরিংয়ের অভাবকে দায়ী করেছেন। খুচরা বিক্রেতা চাঁদ আলী বলেন, মিল মালিকরা দাম বাড়াচ্ছেন বলেই তারা বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মিল মালিকরা দাম কমালে খুচরা পর্যায়েও দাম কমে আসবে। এদিকে, খাজানগরের হযরত অটোরাইচ মিলের মালিক হযরত আলী দাবি করেন, ধানের দাম বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তার তথ্যমতে, মিলগেটে বাসমতি চাল ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮৮ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬২ টাকা হয়েছে। এর প্রভাবে খুচরা বাজারে বাসমতি ৯০ টাকা এবং মিনিকেট ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ বাজারের ধানের হাটের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে ধানের দাম তেমন বাড়েনি। তবে মিনিকেট চাল উৎপাদনের সরু ধান ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং বিনা-৭ জাতের ধান ১ হাজার ৪০ টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে। মিল মালিকরা কৃষকের কাছ থেকে আগেই ধান কিনে গুদামজাত করে রাখায় তারা এখন নিজেদের ইচ্ছামতো চালের দাম নির্ধারণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌহিদ বিন হাসান জানান, যেসকল মিল মালিক চালের দাম বাড়াচ্ছেন তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যেই তদন্ত সাপেক্ষে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জনসাধারণকে চালের দাম বৃদ্ধিকারীদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: কুষ্টিয়াখাজানগরখুচরা বাজারচালের-দামবাজার মনিটরিং