প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ থাকা অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, সভায় প্রকল্পের গতি বাড়ানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পাদন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের অহেতুক বিলম্ব একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও সরাসরি বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিটি কাজের জন্য সময়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে তা শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পের ‘ডিপিপি’ দ্রুত প্রস্তুত করারও তাগিদ দেন মন্ত্রী।

কারাগার সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের কড়াকড়ির কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর হওয়া যৌক্তিক বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ সিভিল ওয়ার্ক ও অবকাঠামোগত প্রকল্পে কোনো ধরনের বিলম্ব সহ্য করা হবে না। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সব সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা বৃদ্ধি, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। এছাড়া দেশের গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত মডেল থানায় রূপান্তর করতে একটি নির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। যেসব এলাকায় জমির সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহনের সংকট দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্প থেকে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। কাজের পুনরাবৃত্তি এড়াতে তিনি পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের পরামর্শ দেন। বর্তমান সরকারের বাকি চার থেকে সাড়ে চার বছরের মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান হিসেবে ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

‘সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এই ভিশনের অংশ হিসেবে বিএনপির ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’-এর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি প্রতিশ্রুতির ম্যাপিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশল (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)-এর ‘থ্রি আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা খাতকে রূপান্তরধর্মী উন্নয়নের মাধ্যমে আরও সুসংহত করার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই পর্যালোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীন ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।