ব্যালন ডি’অরের বর্তমান মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন লামিনে ইয়ামাল প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নিজের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল। তার মতে, এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি এখন ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব বিচারের চেয়ে গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা দলীয় শিরোপার মতো পরিসংখ্যানগত বিষয়ের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মুভিস্টার প্লাসের ‘ইউনিভের্সো ভালদানো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের এই মতামত তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সোনালী সময়ের উদাহরণ টেনে বলেন, তারা যখন খেলতেন তখন সবাই জানত তারাই বিশ্বের সেরা এবং পুরস্কারটিও মূলত তাদের দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু বর্তমানে এমন কিছু বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে যার সঙ্গে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের সরাসরি সম্পর্ক নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার কারণে পিএসজির কোনো খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর দেওয়ার দাবি তোলা অযৌক্তিক। কারণ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ একটি দলীয় সাফল্য এবং ট্রফিটি পুরো দলেরই প্রাপ্য। ব্যক্তিগত পুরস্কার সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং এটি কেবল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কেই দেওয়া উচিত। গোল সংখ্যা দিয়ে ব্যালন ডি’অর নির্ধারণের বিরোধিতাও করেন বার্সার এই উইঙ্গার। তিনি বলেন, কেউ ৮০ গোল করলেই তাকে এই পুরস্কার দেওয়া ঠিক নয়, কারণ তার জন্য তো সর্বোচ্চ গোলদাতার আলাদা পুরস্কার রয়েছেই। দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা হলেও মানুষ তা বোঝে না। ইয়ামালের মতে, মাঠের সত্যিকারের সেরা খেলোয়াড় তিনিই, যাকে খেলতে দেখে দর্শকরা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন এবং যাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা মনে হয়। যখন গোল করা বা বেশি শিরোপা জেতার চেয়ে সত্যিকারের সেরা খেলোয়াড়কে এই পুরস্কার দেওয়া হবে, তখনই ব্যালন ডি’অর তার প্রকৃত মূল্য ফিরে পাবে। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবল দেখার ধরন নিয়েও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ইয়ামাল। নিজের বেড়ে ওঠার সময়কার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তিনি প্রথম থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত পুরো ম্যাচ উপভোগ করতেন, কোনো অ্যাপ খুলে পরিসংখ্যান দেখতেন না। মেসুত ওজিলের মতো প্লেমেকারদের খেলা তিনি খুব পছন্দ করতেন, যারা হয়তো ২০টি গোল করতেন না কিন্তু মাঠে দুর্দান্ত আনন্দ দিতেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান প্রজন্ম অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাচে আসে এবং গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা দেখেই খেলোয়াড়দের ভালো-মন্দ বিচার করে। নিজের পারফরম্যান্সের উদাহরণ দিয়ে ইয়ামাল জানান, গোল বা অ্যাসিস্ট না করেও অনেক ম্যাচে তিনি দারুণ উপভোগ করেন এবং খুশি মনে ঘুমাতে যান। কারণ তার কাছে ফুটবল মানে কেবল গোল করা নয়, বরং গোলরক্ষকের পা থেকে বল বের হওয়ার মুহূর্ত থেকে পুরো আক্রমণ গড়ে তোলা। অনেক সময় রাগ করে বাড়ি ফিরলে তার মা গোল করতে না পারার কারণে রাগ কি না জানতে চান, কিন্তু ইয়ামাল তাকে জানান যে গোল না পাওয়ার জন্য তিনি কখনোই রাগ করেন না। তার কাছে গোল করা কেবলই একটি সংখ্যা। বরং ম্যাচে বল স্পর্শ করতে না পারা এবং খেলা উপভোগ করতে না পারাই তাকে বেশি হতাশ করে। মাঠের কৌশলগত বোঝাপড়া নিয়ে ইয়ামাল জানান, অনুশীলনে তিনি সতীর্থ ফেরমিন লোপেস, এরিক গার্সিয়া ও জুল কুন্দের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ফেরমিন ফাঁকা জায়গায় ঢুকে খেলতে পছন্দ করেন এবং এরিক ও জুল যেন তাকে ভেতরের দিকে ওভারল্যাপ করেন, যাতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা বিভ্রান্ত হয় এবং ইয়ামালের জন্য জায়গা তৈরি হয়। ইয়ামাল মনে করেন, ফুটবলে সবচেয়ে সহজ বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং অনুশীলনের মাধ্যমে সেই এক সেকেন্ডের সুযোগগুলোকে সঠিক সময়ে কাজে লাগানো উচিত। তার বেড়ে ওঠার সময় ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট দেখার অভ্যাস ছিল বলে জানান তিনি। ‘ফুটবলে আমি যেভাবে বেড়ে উঠেছি, সেখানে প্রথম মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত পুরো ম্যাচ দেখতাম। SHARES খেলাধুলা বিষয়: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোফুটবলবার্সেলোনাব্যালন ডি’অরলামিনে ইয়ামাললিওনেল মেসি