জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা লুটেরাদের জন্য রক্ত দেয়নি: ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা কোনো লুটেরা বা চাঁদাবাজদের সুবিধা দেওয়ার জন্য রক্ত ঢেলে দেয়নি। জনগণ অন্যায়, অবিচার ও লুটপাট কখনোই মেনে নেবে না এবং ভবিষ্যতে প্রতিটি অপরাধ ও অধিকার হরণের কড়া হিসাব নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব আমৃত্যু পালন করে যেতে হবে। বিগত ১৭ বছরে তাঁদের দলের ওপর অভূতপূর্ব জুলুম চালানো হয়েছে এবং শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা এক আল্লাহর ওপর ঈমান রেখে সুন্দর দেশ গড়ার স্বপ্নে অবিচল ছিলেন। এই সময়ে বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অতীতের এসব ত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। গত ১৭ বছরে আমাদের ওপর ভিন্ন মাত্রার জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ছাত্রজীবনে অর্জিত নেতৃত্বের গুণাবলি মূল সংগঠন ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। জামায়াত আমীর আরও বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে যে জামায়াত আমানত রক্ষা করবে, আর এই আস্থা রাতারাতি তৈরি হয়নি। দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে যেসব ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তার জবাব দেওয়ার কোনো সময় তাঁদের নেই। কথার লড়াইয়ে না গিয়ে নৈতিকতা ও কাজের মাধ্যমেই মানুষের মন জয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে হালাল রুজি অন্বেষণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না এবং এই দেশে একদিন ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। এই পরিবর্তন ছাড়া দেশের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনে চট্টগ্রামের ভূমিকা ছিল বীরত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম মহানগরীর এমন আয়োজন অনুপ্রেরণাদায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুনিয়াবি কোনো স্বার্থের জন্য ইসলামী আন্দোলন নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই এর মূল লক্ষ্য। জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ও সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, প্রাক্তন সাথীদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে সবার অন্তরে ঈমানের জ্যোতি এখনো জাগ্রত। অন্যদিকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদশাহজাহান বলেন, দেশের মানুষ এক গভীর আদর্শিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং সেই পরিবেশ তৈরিতে সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্রশিবির হলো নেতৃত্ব তৈরির কারখানা, যার শিক্ষা সারা জীবন ধরে কাজে লাগাতে হবে। আর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ক্ষুদ্র দলাদলি ভুলে বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে সহনশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামকে ইসলামের শক্ত ঘাঁটিতে রূপ দিতে প্রাক্তন সাথীদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে। বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক ঐক্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, তরুণ সমাজকে দায়িত্ব নিয়ে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে, যাতে বাংলাদেশ একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মুমিনের দৃষ্টান্ত একটি মজবুত ভবনের মতো। তাই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সংঘবদ্ধ থেকে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনসহ স্থানীয় নেতাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, সাবেক চাকসু ভিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর শিবিরের সভাপতি মুমিনুল হক ও দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক প্রাক্তন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: চট্টগ্রামছাত্রশিবিরজামায়াতে ইসলামীডা. শফিকুর রহমানরাজনীতি