আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমানোর লক্ষ্য আইন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত: 2:32 PM, July 21, 2026 বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই লক্ষ্যের কথা জানান। সেমিনারটি বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১ অনুযায়ী অত্যাবশ্যক বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা বা প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন কার্যক্রমের উদ্বোধনী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল। আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিচারকের স্বল্পতার বিপরীতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা ও অধস্তন আদালতের পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার দ্রুত ও সহজলভ্য করতে এই মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পরিচালিত পাইলট প্রকল্পের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত আইনে ২০২৫ সালের একই সময়ে যেখানে ৩ হাজার ৫৫৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলা নেমে এসেছে ১ হাজার ৭৪৪টিতে। অর্থাৎ মামলার সংখ্যা প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ২৪টি থেকে কমে ১৮টিতে নেমেছে এবং সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টনসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ২ হাজার ১টি থেকে কমে ৬৬১টিতে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৬৭ শতাংশ হ্রাস। আইনমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যৌতুক নিরোধ আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে যেখানে ৫ হাজার ৬০৫টি মামলা দায়ের হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১০টিতে। অর্থাৎ ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ মামলা কমেছে, যা বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের কার্যকারিতার একটি বড় প্রমাণ। এছাড়া স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রি-এম্পশন সংক্রান্ত মামলা ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। বিচারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়েই জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠাতে হবে। তিনি কক্সবাজার জেলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও লিগ্যাল এইড কর্মকর্তাদের আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কম খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। বর্তমানে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল—এই ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। SHARES জাতীয় বিষয়: আইন মন্ত্রণালয়বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিমামলামো. আসাদুজ্জামানলিগ্যাল এইড