গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রকাশিত: 10:01 AM, July 27, 2026 সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এখন নানা গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ইসলামী ব্যাংক দখলে এস আলম গ্রুপকে সহায়তা এবং জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যায় সমর্থন দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দেশে-বিদেশে তার বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে দাখিল করা একটি প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারিতে মো. সাহাবুদ্দিন ও তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ বিষয়ে বুধবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি থাকাবস্থায় দায়মুক্তি থাকায় তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, সংবিধানে রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন দায়মুক্তি থাকলেও তার দায়িত্ব পালনের আগের ও পরবর্তী জীবনের কর্মকাল নিয়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তদন্ত করা উচিত। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে তদন্ত জরুরি। পর্যবেক্ষকদের মতে, নিজের ইমেজ সুরক্ষার জন্য সাহাবুদ্দিনের নিজেই সরকারের কাছে তদন্তের দাবি জানানো উচিত। এছাড়া রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের অনিয়মগুলো ছাড় দিলে দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত হবে এবং বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের সুযোগ পাবে। তবে তার ভবিষ্যৎ ভাগ্য বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে সরকারের দুই মন্ত্রী রোববার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, দুদক চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সচিবালয়ে বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দায়মুক্তি বা প্রিভিলেজড। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময়কার কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময়কার কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দেওয়া হলেও তার আগের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। বিএফআইইউ-এর প্রতিবেদনের তথ্য সত্য হলে তা অবহেলার সুযোগ নেই এবং এস আলমের বিশাল লুটপাট চক্রের সবাইকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, পুরোনো কোনো ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৮২ সালে বিসিএস বিচার ক্যাডারে যোগ দেন। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুদক কমিশনার থাকাকালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া এবং এস আলম গ্রুপকে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা পাচারে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০১৫ সালে বেসিক ব্যাংকের ২ হাজার ৩৭ কোটি টাকা হরিলুটের ঘটনায় মূল কারিগর শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও পর্ষদকে বাঁচাতে তার সরাসরি হস্তক্ষপের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে আর্থিক সুবিধা নেওয়া এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পেছনে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এছাড়া তার স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা ও সন্তান মো. আরশাদ আদনানের নামে থাকা বিপুল সম্পদ এবং সিনেমা নির্মাণে বিনিয়োগের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: ইসলামী ব্যাংকএস আলম গ্রুপদুর্নীতিমো. সাহাবুদ্দিনরাষ্ট্রপতি