বড় দুর্ঘটনায় জরুরি চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই সরকারি হাসপাতালে প্রকাশিত: 8:01 PM, August 1, 2026 ভূমিকম্প বা বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনায় একসঙ্গে বহু মানুষ আহত হলে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি হাসপাতালের নিজস্ব কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রাজনীতিক ও গণমাধ্যম—সবার সমন্বিত সদিচ্ছা ও উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ, জরুরি বিভাগই হলো একটি হাসপাতালের মূল মুখ। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। ঢাকা মেডিকেলের ক্যাজুয়ালটি বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল (এমএসএফ) যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে। ঢাকা মেডিকেলে জরুরি চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এখানে প্রতিদিনের সড়ক দুর্ঘটনা ও সহিংসতার আহত ব্যক্তিদের ভিড় সামলাতে হয়। তিনি বলেন, অন্যান্য হাসপাতালগুলো যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীর দায়িত্ব নিত, তবে ঢাকা মেডিকেলে আহত ব্যক্তিদের সেবার মান বৃদ্ধি পেত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ প্রবণতা অনুযায়ী হাসপাতালের ৮০ শতাংশ রোগী বহির্বিভাগ থেকে এবং ২০ শতাংশ জরুরি বিভাগ থেকে আসে। কিন্তু ঢাকা মেডিকেলের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে ৮০ শতাংশ রোগী জরুরি বিভাগ থেকেই আসে। অনুষ্ঠানে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাক হোসেন খসড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করে বলেন, একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে রোগী ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং অনেক মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়, জনবল বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত ও রোগী ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোকপাত করেন। মোস্তাক হোসেন জানান, বড় দুর্ঘটনায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগী থাকে সাধারণ (গ্রিন), ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মাঝারি এবং ১০ থেকে ২০ শতাংশ গুরুতর অবস্থায় থাকে। এই তিন ধরনের রোগী বাছাই বা 'ট্রাইয়েজ' একটি জটিল কিন্তু জরুরি প্রক্রিয়া, যা সঠিক হলে চিকিৎসা সেবার মান বাড়ে। আলোচনায় অংশ নেওয়া জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর স্বজনদের ভিড় সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী ও তাঁদের অনুসারীরা চিকিৎসায় বাধার সৃষ্টি করেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তোলেন অনেকে। কেউ কেউ পৃথক জরুরি বিভাগ স্থাপনের প্রস্তাব করেন। আবার অনেকে বলেন, সংবাদমাধ্যমকে সঠিক তথ্য দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকলে মানুষের ভিড় কমবে। ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করা এমএসএফের প্রতিনিধি মো. জামিল বলেন, কেবল পরিকল্পনা থাকাই যথেষ্ট নয়, এটি নিয়মিত চর্চা বা ড্রিল করা প্রয়োজন, যাতে পরিকল্পনার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা যায়। SHARES রাজধানী বিষয়: এমএসএফজরুরি চিকিৎসাঢাকা মেডিকেলদুর্ঘটনাস্বাস্থ্যসেবা