মেজর জাহিদ হত্যা ও গুমের বিচার শুরু, আইজিপি শহীদুল রিমান্ডে

প্রকাশিত: 8:32 PM, August 1, 2026

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের তথ্য জানার অপরাধে পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামকে হত্যা এবং তার স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে গুম করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীকে হত্যার পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জেবুন্নাহার ও তার দুই মেয়েকে চোখ বেঁধে ডিবির ‘আয়নাঘরে’ দীর্ঘ ৪ মাস ৭ দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এ সময় স্বামীকে জঙ্গি বলে স্বীকারোক্তি আদায় করতে জেবুন্নাহারের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নিপীড়ন চালানো হয়।

অবশেষে এই জঘন্যতম হত্যা ও গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হককে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধান আসামি হিসেবে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে এ আদেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞের সময় মেজর জাহিদের কোর্সমেট শহীদ ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দার তাকে ফোনে জানিয়েছিলেন যে, সব অফিসারকে মেরে ফেলা হয়েছে। মাজহারুল তাকে আরও বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডে বিডিআর পোশাকে হিন্দিভাষী কিছু ব্যক্তিকে দেখা গেছে, যাদের আগে পিলখানায় কখনো দেখা যায়নি। বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে থাকা জাহিদ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলতে থাকেন।

সেনাবাহিনীতে অযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ নানা বিশৃঙ্খলা মেনে নিতে না পেরে ২০১৫ সালে জাহিদ চাকরি ছেড়ে উত্তরায় বসবাস শুরু করেন। গোয়েন্দা নজরদারির একপর্যায়ে তিনি পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং উত্তরায় বাসা বদলে রূপনগরে ওঠেন। কিন্তু ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে রূপনগর থানা পুলিশের একটি দল তাকে হাত বেঁধে বাসার নিচে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এর আগে রাত ১০টার দিকে জেবুন্নাহার ও তার দুই সন্তানকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ তাকে তার স্বামী ও নিজেকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য চাপ দেয়।

গত বছরের ১০ আগস্ট জেবুন্নাহার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ বিষয়ে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ছাড়াও ডিএমপির ডিবি’র তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, সিটিটিসির তৎকালীন প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের তৎকালীন ডিসি মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি শাহীদ আলম, ডিসি ডিবি কৃষ্ণ পদ রায় এবং রূপনগর থানা পুলিশের অজ্ঞাতনামা সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

জেবুন্নাহার ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন না হলে হয়তো তাকে ধুঁকে ধুঁকে জেলখানায় মরতে হতো। জাহিদের ভাই জাহিদুল হক মজুমদার জানান, দীর্ঘ আড়াই বছর পর বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হলে জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়; এর আগে লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল।