জুলাই অভ্যুত্থানে রাকিবুল হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশিত: 7:01 PM, August 1, 2026 জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে রাকিবুল হোসেন (২৯) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্ত শেষে পিবিআই পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন, যা শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ ও বিপ্লব কুমার, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস মোল্লা। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মান্নান কচি, এখলাস উদ্দিন মোল্লা এবং সাবেক কাউন্সিলর কাসেম মোল্লাকেও আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, অব্যাহতি পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক এমপি কামরুল আরেফিন, পাবনা-৪ আসনের সাবেক এমপি গালিবুর রহমান শরিফ, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেডের এমডি মো. লোকমান হোসেন এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ তালুকদার। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১২ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির পর ২০২৪ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই মাস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে, যা আন্দোলনকে বিপ্লবে রূপ দেয়। তদন্তে উঠে আসে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অভিযুক্তরা গোপন বৈঠক করে আন্দোলন দমনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। শীর্ষ নেতারা ও পুলিশ কর্মকর্তারা সারা দেশে এবং বিশেষ করে মিরপুরে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে দমনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং সহিংসভাবে আন্দোলন থামানোর ষড়যন্ত্র করেছিলেন। নিহত রাকিবুল হোসেন এমআইএসটি থেকে ২০২১ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে সুপার জুটমিলের বনানী হেড অফিসে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে আন্দোলনকারীদের মিছিলে অজ্ঞাত আসামিদের ছোড়া বুলেটে তার গলার বাম পাশে গুলি লাগে। ড. আজমল হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই ২০ জুলাই ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু থানার বাসুদেবপুর পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ২০ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত চলাকালে লাশ উত্তোলনের জন্য আদালতের আদেশ থাকলেও পরিবারের আপত্তি এবং স্থানীয়দের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। নিহতের বাবা ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় এসে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যান এবং ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করেন। রাকিবুল তার বাবার দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছিলেন। SHARES অন্যান্য বিষয়: চার্জশিটজুলাই অভ্যুত্থানপিবিআইরাকিবুল হোসেনশেখ হাসিনাহত্যা মামলা