সখীপুরে অসুস্থ প্রবাসীকে রাতে রাস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগ প্রকাশিত: 8:04 PM, August 3, 2026 টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ এক প্রবাসীকে গভীর রাতে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৫৫ বছর বয়সী ওই প্রবাসীর নাম জামাল উদ্দিন ওরফে মিস্টার। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তাঁর ছেলে আবু রায়হান একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্থানীয়রা গত রোববার সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তাঁর ভাতিজি ইসমত আরা তাঁকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে জামাল উদ্দিন সখীপুরের কালমেঘা গ্রামে তাঁর পৈতৃক ভিটা ও সম্পত্তি বোনের জামাই আবদুল গফুরের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকে তিনি সৌদি আরবে যান এবং দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে থাকাকালীন জামাল তাঁর উপার্জিত সব অর্থ স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছেন। তবে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার পর স্ত্রী ও সন্তানেরা তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। স্বজনদের ভাষ্যমতে, গত শনিবার গভীর রাতে স্ত্রী ও সন্তানেরা মিলে জামালকে কালমেঘা গ্রামে তাঁর পৈতৃক ভিটার পাশের রাস্তায় রেখে চলে যান। সারা রাত তিনি প্লাস্টিকের বস্তার ওপর শুয়ে কাটাতে বাধ্য হন। সকালে পাশে দুটি ব্যাগসহ তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিস্মিত হন। অভিযোগের বিষয়ে জামালের স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ছেলে আবু রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনেছেন এবং মায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো নয়। তিনি আরও বলেন, পোশাক কারখানায় স্বল্প বেতনে কাজ করা তাঁর পক্ষে অসুস্থ বাবার দায়িত্ব নেওয়া কঠিন, তবে বাবার সঙ্গে এমন আচরণ অমানবিক। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন, থানায় এ বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোশারফ হোসেন এই ঘটনাকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে এবং প্রয়োজনে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। SHARES জাতীয় বিষয়: অপরাধঅমানবিকটাঙ্গাইলপ্রবাসীসখীপুর