জুলাই শহীদদের রক্তঋণ পরিশোধে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের প্রকাশিত: 10:02 PM, August 4, 2026 ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেশবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছাবাণীতে তিনি এই দিনটিকে জাতীয় জীবনের ইতিহাসে এক অনবদ্য, গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু-বৃদ্ধ, নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের পেশাজীবী মানুষ অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ছাত্রদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনই একপর্যায়ে ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে উন্মত্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেশের মুক্তিকামী মানুষ জালিম শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু, গুলি ও বোমা উপেক্ষা করে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশব্যাপী দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলে। অবশেষে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব ও বীরত্বপূর্ণ গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তাঁর দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এর ফলে দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের একনায়কতন্ত্র, জুলুম-নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশের মানুষ খুনি স্বৈরাচার ও তাদের বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের আধিপত্য থেকে মুক্তি লাভ করে। এসবই জুলাই গণআন্দোলনের গৌরবময় ফসল বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াত আমির বলেন, এই আন্দোলনে জাতিকে চরম ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তমূল্য দিতে হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি-র একাংশের মাধ্যমে নির্বিচারে চালানো গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ তাদের হাত, পা বা চোখ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ যেসব তাজা প্রাণ বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়ে শাহাদাতবরণ করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে আন্দোলনের সময় আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী, শহীদ পরিবার এবং নির্যাতিত সকলের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ইনসাফভিত্তিক এবং সুশাসন ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ জাতিকে এক মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। তিনি অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন, একটি মহলের কারণে আমরা তাদের সেই প্রত্যাশা আজও পূরণ করতে পারিনি এবং এখনো আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। জাতিকে যে কোনো মূল্যে শহীদদের এই রক্তঋণ পরিশোধ করতে হবে। আমাদের শপথ নিতে হবে যেন শহীদদের এই রক্ত কোনোভাবেই বৃথা না যায়। বীর শহীদদের রক্তের ঋণ আমরা কেবল তখনই আংশিক পরিশোধ করতে পারব, যখন একটি বৈষম্যহীন, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবো। পরিশেষে তিনি অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে সুখী-সমৃদ্ধ, মানবিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দেশের মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: জামায়াতে ইসলামীজুলাই গণঅভ্যুত্থানডা. শফিকুর রহমানবাংলাদেশশহীদ৫ আগস্ট