জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: তদন্ত কমিটি গঠন করলেন উপাচার্য

প্রকাশিত: 11:30 PM, August 4, 2026

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শহিদুল্যাহ। এছাড়া রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগরকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদদীন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন আগে থেকেই বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও অংশীজনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে সবার সংযত, দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো প্রক্রিয়া নষ্ট হলো। আমি সেমিনার থেকে বের হয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। কেউ আমার কথা শোনেনি।’

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার স্থান নেই। তিনি জানান, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন হাসপাতাল এলাকায় দুই দফায় এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জকসুর বেশির ভাগ পদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন।