টাঙ্গাইলে শ্লীলতাহানির মামলা করায় বাদীপক্ষের ওপর ফের সন্ত্রাসী হামলা প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২৬ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চর-খিদির এলাকায় এক ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং এর বিচার চেয়ে মামলা করার জেরে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর দফায় দফায় প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামিরা জামিনে বের হয়ে এসেই বাদীর পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। শনিবার টাঙ্গাইলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের অবহেলা এবং অপরাধীদের বেপরোয়া তাণ্ডবের বিষয়টি তুলে ধরে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে চর-খিদির এলাকার জাহিদুল ইসলামের মেয়ে বর্ষা আক্তার প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে টেলিভিশন দেখে ফেরার পথে একই এলাকার হাসান মিয়া তাকে জোরপূর্বক ঘরে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। ঘটনার পর ৪ জুলাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মোতালেব হোসেনের বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসে। কিন্তু সালিশ চলাকালীন আসামি মজিবুর রহমানের পরিকল্পনায় হাসান মিয়া, ঈমান আলী, মোঃ জামাল, কাশেম ও হালিমসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে বাবুল হোসেনের ১৬ বছরের ছেলে রাকিবের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে সে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় নারীদের শ্লীলতাহানি ও নগদ টাকা লুট করা হয়। ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই আসামিরা ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিল এবং জামিনে বের হয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম টাঙ্গাইল শহরের সার্কিট হাউজের পশ্চিম পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রশাসনের কাছে ৪ দফা দাবি পেশ করেছেন: হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও পরবর্তী হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করা, ভুক্তভোগী পরিবারকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তারা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। SHARES অন্যান্য বিষয়: টাঙ্গাইলনিরাপত্তাহীনতামামলাশ্লীলতাহানিসন্ত্রাসী হামলা