ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করল ইংল্যান্ড

প্রকাশিত: ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এক অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ১০ গোলের এক পাগলাটে থ্রিলারে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। থমাস টুখেলের শিষ্যদের জন্য এটি গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য। প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যাচ একপেশে করে তুললেও দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসিদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ম্যাচটিতে চরম উত্তেজনা ছড়ায়।

ম্যাচের শুরু থেকেই বিধ্বংসী রূপে হাজির হয় থ্রি লায়নরা। মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় ডেকলান রাইস মধ্যমাঠে ফরাসিদের দুর্বল পাস কেড়ে নিয়ে দারুণ এক ইনসাইড-কাটে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে বোকা বানিয়ে বাঁকানো শটে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন। এরপর ১৮ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে চমৎকার হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যাসটন ভিলার ডিফেন্ডার এজরি কোনসা, যা জাতীয় দলের হয়ে তার দ্বিতীয় গোল। প্রথমার্ধেই ৩-০ করেন বুকায়ো সাকা। মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের পাস থেকে বক্সে ঢুকে ফরাসি কিপার মাইক মেনিয়কে কাটানোর সময় রেফারির সাথে ধাক্কা খান সাকা। এরপর পাল্টা আক্রমণে ফ্রান্সের রায়ান চেরকির শট ইংলিশ গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বল আবার পান র‍্যাশফোর্ড। তার পাস থেকে সাকার নেওয়া জোরালো শট এক ফরাসি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধের শেষদিকে সাকা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে ৪-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রান্স। শুরুতেই মাইকেল ওলিসের চমৎকার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ইংলিশ কিপার ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে ব্যবধান ৪-১ করেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর সাত মিনিট পর ইংল্যান্ডের এবেরেচি ইজে মাঝমাঠ থেকে ফরাসি কিপারের মাথার ওপর দিয়ে লব করার ব্যর্থ চেষ্টা করলে পাল্টা আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। মাত্র ২০ সেকেন্ডের মাথায় বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ৪-২ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক আগে ওলিসে ও উসমান দেম্বেলের সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান কম্বিনেশনে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে আসরে নিজের ১০ম গোল করার পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২২ গোলের বিশ্বরেকর্ড গড়েন ফরাসি অধিনায়ক।

৩-৪ স্কোরলাইনে ম্যাচ যখন চরম উত্তেজনায়, ঠিক তখনই ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। বক্সে ফাউলের কারণে পেনাল্টি বাঁশি বাজলে জুড বেলিংহাম প্রথমে বল হাতে নিলেও সাকাকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ দিতে উদারতা দেখান। স্পট-কিক থেকে ফরাসি কিপার মেনিয়কে বোকা বানিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই আর্সেনাল তারকা। তবে নাটকীয়তা তখনও শেষ হয়নি। ইনজুরি টাইমে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক শটে গোল করে ব্যবধান ৫-৪ করেন উসমান দেম্বেলে। ফরাসি শিবিরে যখন সমতার আশা উঁকি দিচ্ছে, ঠিক তার দুই মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সের জাল কাঁপান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহাম। তার এই গোলের সাথে সাথেই ৪-৬ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।

ইনজুরি টাইমে উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত গোলে রোমাঞ্চের পারদ চরমে তুলল ফ্রান্স! ম্যাচ শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে ডান প্রান্ত থেকে বিদ্যুৎ গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন দেম্বেলে। এরপর বাঁ পায়ের এক চমৎকার মাপা শটে ইংলিশ কিপার ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে বল পাঠিয়ে দেন দূরের পোস্টে। এই গোলের মাধ্যমে স্কোরলাইন ৪-৫ করে ম্যাচটিতে অবিশ্বাস্য উত্তেজনার সৃষ্টি করে ফরাসিরা।

মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ জমিয়ে তুলল ফ্রান্স! মাঝমাঠ থেকে ফরাসি কিপারের মাথার ওপর দিয়ে লব করার চেষ্টা করেছিলেন ইংল্যান্ডের এবেরেচি ইজে। তবে তার সেই ব্যর্থ চেষ্টার ঠিক ২০ সেকেন্ডের মাথায় বল কেড়ে নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে ফ্রান্স। দ্রুতগতির সেই পাল্টা আক্রমণ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-৪ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। মায়ামিতে এখন টানটান উত্তেজনা!